আমরা সময়মতো রাশ টানতে পারিনি

Sharbazar_Crash_Muhitঅবশেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আত্মপোলব্ধি হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের পেছনে নিজেদের ব্যর্থতার দায় বুঝতে পেরেছেন তিনি।তিনি মনে করছেন, পুঁজিবাজারের বিকাশে তারা একটু বেশি ‘সুবিধা’ দিয়েছিলেন।এতে বাজার অস্বাভাবিক তেজী হয়েছে। কিন্তু সময়মত এ বাজারের রাশ টেনে ধরতে পারেন নি তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার ডিএসই সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু,সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশীদ লালীসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাত করতে আসেন।এ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চেয়েছিলাম বাজার আরও বিকশিত হোক।শিল্পের মূলধন যোগানে এ বাজার আরও বেশি ভূমিকা রাখুক। এ কারণে আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলাম। মনে হয় একটু বেশিই দিয়ে ফেলেছিলাম। সুযোগ-সুবিধা দিতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয়ও হয়েছে। এতে বাজারে অতিমূল্যায়ন হয়েছে। যখন রাশ টেনে ধরা দরকার ছিল তখন তা করতে পারিনি আমরা। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার।

মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আসেনি। আমরা এসব শেয়ার বাজারে আনার চেষ্টা করবো।এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়ার বিষয়টিও সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ডিএসই তিনটি দাবি তুলে ধরে। এগুলো হচ্ছে-শেয়ার লেনদেনের উপর থেকে স্ট্যাম্প ডিউটি তুলে দেওয়া, কর রেয়াত সুবিধা বহাল রাখা এবং শেয়ার অফলোডের উপর থেকে কর প্রত্যাহার।

অর্থমন্ত্রী দাবি তিনটি বিবেচনার আশ্বাস দেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষে এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার এসে এসব বিষয় বাস্তবায়ন করবে।

ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট সম্পর্কে মুহিত বলেন, বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকার এ আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে রাখবে; যাতে নতুন সরকার এসে দ্রুত এ আইন বাস্তবায়ন করবে।