সরকার জামায়াত-শিবির নামক জলাতঙ্ক রোগে ভুগছে: খন্দকার মাহবুব
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রাজনীতি

সরকার জামায়াত-শিবির নামক জলাতংক রোগে ভুগছে: খন্দকার মাহবুব

mahbubজামায়াত-শিবির নামক জলাতংক রোগে ভুগছে সরকার। তাই জামায়াত-শিবিরের উপর অনৈতিকভাবে  হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুমে আয়োজিত ‘মহান বিজয় দিবস, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি: চাই গণতন্ত্র, শান্তি ও সমৃদ্ধি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল রিসার্চ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এলার্ট)।

খন্দকার মাহবুব বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশে অরাজকতা চলছে। জামায়াত-শিবিরকে দেখামাত্র গুলি করছে পুলিশ। তাই সাতক্ষীরা, সিলেট, লালমনিরহাটসহ সারাদেশে যত মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তাদের সকল দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। কোনোভাবেই এর দায় এড়ানো যাবে না।

বর্তমানে সারাদেশ থেকে ঢাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে মাহবুব বলেন, এ সত্য দৃশ্য আ.লীগ ও তার অনুসারী মিডিয়াগুলো বিশ্বাস না করলেও পৃথিবীর সব মিডিয়া স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব মিডিয়া বাংলাদেশকে কারাগার হিসেবে অবিহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে এখন সবচেয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে। অথচ হাসিনা গণভবনে বসে ফের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। পাকিস্তানের আইয়ুব খানও একইভাবে স্বপ্ন দেখেছিল। তার স্বপ্ন পুরণ হয় নি, হাসিনারও হবে না।

র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশ দিয়ে কখনো গণআন্দোলন ঠেকানো যায় না উল্লেখ করে খন্দকার মাহাবুব বলেন,  সারাদেশে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে। তাই সময় থাকতে সম্মানের সাথে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ২৪ জানুয়ারির পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করুন, অন্যথায় আপনাকে কঠোর আন্দোলন মোকাবেলা করতে হবে। যদি সাহস থাকে আপনার পেটোয়া বাহিনী ছাড়া আপনি ঘর থেকে আপনার এলাকায় যান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি জনআতঙ্কে বিশ্বকাপের ট্রপি স্টেডিয়ামে না রেখে রেডিসনে রেখেছেন তাহলে বুঝেন আপনার জনসমর্থন কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে ।

তিনি আরও বলেন, আপনার সন্ত্রাসী দল চেঙ্গীস খানের মত আচরণ করছে। আপনার আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী ঘর থেকে যাকে খুশি তাকে গ্রেপ্তার করছে। সুষ্ঠু ও গহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় থাকুন আর না হয় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। না হলে জনগণের আন্দোলনে আপনার পতন ঠেকানো যাবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের সহিংসতার যে সংবাদ আমরা টেলিভিশনে দেখতে পাই তাই প্রকৃত ঘটনার ১০ ভাগের এক ভাগ। কারণ গণমাধ্যমকর্মীরাও এখন আতংকিত। তারা সত্য কথা বললে মাহমুদুর রহমানের মত অবস্থা হবে।

কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানকে যদি আপনাদের এতই অপছন্দ, তবে ১৯৭৪ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান দেখানো হয়েছিল। আর ১৫৪ জন চিহ্নিত যোদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছিল।

এলার্ট এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা দেন সংগঠনের স্টুডেন্ট ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইদুজ্জামান রহমান, বাংলাদেশ লেভার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সাবেক সাংসদ এবিএম মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

জেইউ/এএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ