কাতারে প্রাণ বাঁচাতে ভিক্ষায় নেমেছে কাজ হারানো প্রবাসীরা

0
177
দোহা

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতারে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ অনেক দিন ধরেই। করোনায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান করোনার অজুহাত দেখিয়ে মার্চ-এপ্রিলে বিপুল সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক অনটনে পড়েছে অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক। এদের কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে খাদ্য ভিক্ষা শুরু করেছে। এদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশীও আছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে ভিক্ষা পাওয়াও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদপত্র গার্ডিয়ান এবং সৌদি আরবে সংবাদপত্র আরব নিউজ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কাতারে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে গার্ডিয়ান তাদের তাদের বেশ কয়েকজনের সাক্ষাতকার নিয়েছে। আর এসব সাক্ষাতকারেই উঠে এসেছে মর্মান্তিক নানা তথ্য।

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক রফিক (বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি গার্ডিয়ান) গত মার্চ মাসে চাকরি হারিয়েছেন। তাই আয়-রোজগার নেই। এর মধ্যে সঞ্চিত অর্থ ও খাবার শেষ হয়ে এসেছে। তার কাছে আর মাত্র দু’তিন খাওয়ার মতো চাল ও ডাল আছে। এর সে কী খাবে,কীভাবে বেঁচে থাকবে তা জানে না। দুঃশ্চিন্তায় সে ভেঙ্গে পড়েছে।

মইনুল নামের একজন বাংলাদেশী জানিয়েছে, তার কাছে কোনো টাকা নেই। বাড়ি ভাড়া দেওয়া ও খাবারের জন্য সে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ ধার করেছে। কিন্তু তাদের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে আসছে। এমন অবস্থায় করোনা নয়, তার ভয় কাজ নিয়ে। দ্রুত সব কিছু স্বাভাবিক না হলে কাজ ফিরে পাওয়া যাবে না, তখন কী হবে তা নিয়েই যত ভয় তার।

রফিক-মইনুলের মতো অবস্থা আরও অসংখ্য শ্রমিকের। যাদের অনেকেরই অর্থ ও খাবার শেষ হয়ে গেছে। এরা নিরুপায় হয়ে বাড়ির মালিকের কাছে খাদ্য সহায়তা চাইছেন, কেউ কেউ বাইরেও হাত পাতার চেষ্টা করছে।

কাতার প্রবাসী নেপালি শ্রমিকদের একটি গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের নিয়োগকর্তা জোর করে একটি কাগজে সই করতে বাধ্য করেছে, যেখানে বলা হয়েছে বেতনের বিষয়ে তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। এর মধ্যে তাদের সব অর্থ শেষ হয়ে এসেছে। উপায় না পেয়ে তারা তাদের সুপারভাইজারের কাছে খাদ্য সহায়তা চাইলে কিছু খাদ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই খাবার শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে না খেয়ে দিন পার করতে হবে এমন আশংকায় আছেন তারা।

দোহা

এছাড়া দেশটিতে করোনার পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা প্রচণ্ড অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তাদের নিয়োগ কর্তাদের অনেকেই শ্রমিকদের ক্যাম্পে রেখেছে। সেখানে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব মানার কোনো সুযোগ তো নেই-ই, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানারও সুযোগ নেই তাদের। বেশির ভাগ নিয়োগকর্তা শ্রমিকদের কোনো খোঁজই নেয় না। এসব কারণে প্রবাসীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২৮ লাখ মানুষের কাতারে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বে করোনায় সংক্রমণের হারের দিক থেকে কাতার শীর্ষ কয়েকটি দেশের একটি। আর এই আক্রান্তদের একটি বড় অংশই হচ্ছেন প্রবাসী শ্রমিকরা।

গত মার্চ মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা করোনাকালে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাতার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু তারা যে তাতে ন্যুনতম সাড়া দেয়নি তা দেশটিতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর করোনায় আক্রান্ত হওয়া, কাজ হারানো ও খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে উঠে আসছে।

তবে বাংলাদেশ সরকার কাতারসহ কয়েকটি দেশে অবস্থানরত কাজ হারানো শ্রমিকদের জন্য খিচু ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। জানা গেছে, কাতার দূতাবাসে নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে এই খাদ্য সহায়তা পাওয়া গেছে। নিবন্ধিত প্রত্যেক প্রবাসী ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৪টি আলু ও ৪টি পেঁয়াজ সহায়তা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দেশটিতে যে পরিমাণ প্রবাসী আছেন, সে তুলনায় ত্রাণসামগ্রী অনেক কম। তাই বেশিরভাগের পক্ষেই এ সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে না।