রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধ্বংসের মুখে দেশের সিএনজি খাত
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জ্বালানি-বিদ্যুৎ

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধ্বংসের মুখে দেশের সিএনজি খাত

Cng দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে দেশের সিএনজি খাত। তাই পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক বিবেচনা করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সমাধানের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সিএনজি খাতের সমস্যা সম্পর্কিত’ এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সিএনজি খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশ উন্নয়ন সহায়ক শিল্পখাত হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। বিনিয়োগকারীরা অতিঅল্প সময়ের মধ্যে এ খাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে বর্তমানে সারাদেশে ৫’শ ৮৫টি সিএজি স্টেশন ও ১’শ ৭০টি কনভার্শন ওয়ার্কশপ স্থাপিত হয়েছে। যার সুবাদে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও যানবাহন ও গণপরিবহনে সিএনজি ব্যবহারের ফলে এ শিল্পখাত থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশীয় অর্থনীতির ভিত্তকে মজবুত করেছে বলেও জানান তারা।

বক্তারা বলেন, ডিজেল চালিত যানবাহনের তুলনায় ক্লিনফুয়েলখাত সিএনজি প্রায় ৪৬ শতাংশ বায়ু দূষণ রোধ করে। আর এভাবে সিএনজি খাতটি পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে।

বর্তমানে দেশের চলমান অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ খাতটি উল্লেখ করে তারা বলেন, সিএনজি মালিকদের সাথে ভুক্তভোগী সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোও। প্রায় ৫’শ ৮৫টি স্টেশনে গ্যাস বিক্রি কমে গেছে। এর ফলে অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়বে।

এছাড়া বর্তমান সরকার গত ৫ বছরে কয়েক দফায় গ্যাসের দাম বাড়ালেও ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকদের জন্য মার্জিন না বাড়ানোর কারণে স্টেশনগুলো মৃতপ্রায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা বলেন,  এ অবস্থায় আশঙ্কাজনক হারে বিক্রয় কমে যাওয়ায় স্টেশন মালিকদের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ সময় তারা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ব্যাংক কিস্তির সুদকে ব্লক একাউন্টে নিয়ে ডাউন্ট পেমেন্ট ব্যতীত ব্যাংকের প্রদেয় কিস্তি কমপক্ষে এক বছরের জন্য পূন:তফসিল করতে হবে। প্রদেয় গ্যস বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে সারচার্জ আরোপ বাদে এক বছরের কিস্তি সুবিধা দিতে হবে এবং দেশের ব্যবসায়ীক খাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসা পর্যন্ত কিস্তির জন্য ঋণখেলাপি করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়নের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআই-র সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব সাজেদুল হোসাইন চৌধুরী, আব্দুল মতিন খান, নজরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

জেইউ/এএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ