আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী

0
691
ছবি: রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছবি: রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছবি: রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ ২৫ বৈশাখ। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এ দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সঙ্গীতের এই কিংবদন্তি পুরুষ।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সব  শাখাতেই বিচরণ করেছেন। যুক্ত থেকেছেন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন স্বদেশি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ১৯১৩ সালে জয় করেছিলেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের নাইট উপাধি লাভ করেন। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই উপাধি ত্যাগ করেন।

কলকাতায় জন্ম হলেও পৈতৃক জমিদারি দেখভালের জন্য তিনি তদানীন্তন পূর্ব বাংলার এসেছেন বহুবার। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসরের জমিদার বাড়ি আজো তার স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। তার রচিত ছোটগল্পে আবহমান গ্রামবাংলা শৈল্পিক রূপ পেয়েছে।

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী ঘিরে উৎসবমুখর বাংলাদেশ- ভারত। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, খুলনার দক্ষিণ ডিহি ও চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি নানা আয়োজনে পালিত হবে তার জন্মদিন। ঢাকায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ছায়ানট, বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ তার  শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেছেন ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে। সেখানে তিনি ভৃত্যদের শাসনের বিষয়ে বলেছেন। রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয়েছিল  কলকাতার  ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। তার পরের কয়েক বছর তিনি পড়েছেন বিদ্যাসাগরের প্রতিষ্ঠিত  নর্মাল স্কুলে।  সেখানেই তার বাংলা শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। সব শেষে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল সেন্ট জেভিয়ার্সে।  অনিয়মিত  উপস্থিতির কারণে  তার স্কুল পড়া শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি গৃহশিক্ষকের কাছে  সংস্কৃত, ইংরেজি, পদার্থবিদ্যা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোলসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। পাশাপাশি ড্রয়িং, সঙ্গীত শিক্ষা ও জিমন্যাস্টিক শিক্ষাও।
১৮৭৪ সালে তার লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড যান। তবে সেটি আর হয়ে উঠেনি। দেড় বছর সেখানে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে রচনা করেন গীতিনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’।  ১৮৮২ সালে  তিনি ‘সন্ধ্যাসঙ্গীত’ ও ১৮৮৩ সালে ‘প্রভাতসঙ্গীত’ রচনা করেন।  ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করেন মৃণালিনী দেবী চৌধুরাণীকে। তার গ্রন্থের মধ্যে ‘শেষের কবিতা’ বাঙালির বহুল পঠিত উপন্যাস। বলাকা, সোনার তরী, মানসী, চিত্রা, চৈতালী, কল্পনা, ক্ষণিকা, চোখের বালি, নৌকাডুবি, গোরা, চিত্রাঙ্গদা, শ্যামা, নটরাজ, সভ্যতার সঙ্কট ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।