লকডাউনে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে চাকরি হারালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
63
WELLINGTON, NEW ZEALAND - MARCH 19: Health minister David Clark speaks to media during a press conference on March 19, 2020 in Wellington, New Zealand. The New Zealand government is introducing further measures in response to the ongoing COVID-19 outbreak. As of 1pm, there were 28 confirmed cases of coronavirus in New Zealand. (Photo by Hagen Hopkins/Getty Images)

করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে বিশ্বের আরও অনেকগুলো দেশের মতো নিউজিল্যান্ডেও চলছে দেশব্যাপী লকডাউন। মরিয়া চেষ্টা করছে দেশটি করোনার সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে। এই ধরনের কার্যক্রমে প্রত্যেক দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অন্যতম প্রধান ভূমিকা নিতে হয়। কিন্তু কোনো দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি নিজেই করোনা ঠেকাতে জারি করা সরকারের নির্দেশনা লংঘন করেন, তাহলে সেটি হয়ে উঠে জাতির কাছে একটি ভয়ানক বার্তা।

এমনই এক অঘটন ঘটিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. ডেভিড ক্লার্ক। তিনি লকডাউনের মধ্যেই গোপনে চলে গিয়েছিলেন পছন্দের এক সমুদ্র সৈকতে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের অপো নামের বিচে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

লকডাউন ভেঙ্গে সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার অপরাধে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ডেভিড ক্লার্ককে তার পদ থেকে অপসারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। একই সঙ্গে তাকে পদাবনতি (Demotion) দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী থেকে সহযোগী মন্ত্রী করা হয়েছে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহযোগী অর্থমন্ত্রীর।

ড. ডেভিড ক্লার্ক

ধরা পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য ড. ডেভিড ক্লার্ক নিজেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী সেটি গ্রহণ না করে তাকে পদাবনতি দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ড. ক্লার্ককে একটি জঘন্য অপরাধ করেছে। অন্য সময় হলে তাকে সরাসরি বরখাস্ত করতাম। কিন্তু জাতি এখন একটি বড় সঙ্কটে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে। তাই তাকে মন্ত্রীসভা থেকে একেবারে বাদ না দিয়ে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশটির এক জনপ্রিয় টিভি টকশোতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক স্বীকার করেছেন তিনি বড় ধরনের একটি বোকামী করেছেন এবং এটি ছিল একটি বড় অপরাধ। তিনি বলেন,’আমি একটি বড় ভুল করেছি। আমি যা করেছি,  তার কোনো ক্ষমা নেই। ‘

ড. ডেভিড ক্লার্ক তার অপরাধের জন্য দেশবাসীর  (নিউজিল্যান্ডবাসী) কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

সিএনএন ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড অবলম্বনে