প্রথম প্রান্তিকে গ্রাহক বেড়েছে ১৬ লাখ, আয় ১৯২ কোটি টাকা

0
88
ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়
 ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন  প্রকাশ করা হয়

ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়

চলতি ২০‌১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের নতুন গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখ। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আয় (রাজস্ব) করেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির হিসাব মতে এই আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়  ১৯২ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক এক শতাংশ বেশি

এদিকে নতুন এই গ্রাহকসহ কোম্পানিটির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানিটি এ সব তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত গ্রামীণফোনের ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রান্তিকে থ্রি জি’র বিস্তার ও টু জি’র ধারণ ক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মোট ২৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সুদ, সিএফও মো. মঈনুর রহমান ভূঁইয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, গ্রামীণফোন ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে যে রাজস্ব আয় করেছে তা ২০১৩ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক এক শতাংশ। মূলত নতুন গ্রাহকদের আউটগোয়িং কল বৃদ্ধি, ৩জি চালু হওয়ায় ডাটা রাজস্ব বৃদ্ধি, এসএমএস এবং ক্যাম্পেইন ভিত্তিক কনটেন্ট সেবার কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে তারা জানান।

তারা জানান, আলোচিত প্রান্তিকে কোম্পানি ২ হাজার ৪৯২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে রাজস্ব ছিল ২ টাকা ৩০০ কোটি ৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ১৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। কিন্তু এ সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা ও  পণ্য বিপণন ব্যয় অনেক কমিয়ে নিয়ে আসায় মুনাফা বেড়েছে এরচেয়ে বেশি হারে। গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা করেছে ২০ দশমিক ৭ ভাগ মার্জিনসহ ৫২০ কোটি টাকা।

এছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আন্তসংযোগ, হোলসেল এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলে তারা মনে করেন। গত প্রান্তিকে ৩জি গ্রাহকের সংখ্যাও আশাব্যঞ্জকভাবে বেড়েছে বলে জানান তারা ।

গ্রামীণফোন গত প্রান্তিকে ৩জি নেটওয়ার্ক স্থাপন, ২জি এর ধারণ ক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে মোট ব্যয় করেছে ২৮০ কোটি টাকা। এর ফলে চালু হবার পর থেকে কোম্পানির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাড়িয়েঁছে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটি সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট ও শুল্ক আকারে মোট এক হাজার ৭০ কোটি টাকা জমা করেছে। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিষ্ঠানটি মোট জমা করেছে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে বিবেক সুদ বলেন, ২০১৩ সালের শেষ প্রান্তিকে দেশে কিছুটা আর্থিক মন্দাভাব থাকায় গ্রামীণফোনের আয় কিছুটা কমে যায়। কিন্তু ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি সচল হওয়ায় গ্রামীণফোনের আয়ও বেড়েছে। ফলে আবার আমরা সাফল্যের ধারায় চলে আসতে পেরেছি। এই গতি ধরে রাখা এবং ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে যাওয়ার আশা করছি।

৬৪টি জেলায় যে ৩জি সেবা পৌছে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন। সকলের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌছেঁ দেবার জন্য সামাজিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তাদের লক্ষ্য অটুট আছে বলে জানান তিনি।

এসএই/