‘কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ’

0
127

NEWAGEকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি থেকে অকৃষিখাতে, গ্রাম থেকে শহরে, শিল্প ও অন্যান্য খাতের মধ্যে শ্রমের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।বিশ্ব ব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট-২০১৩ জবস’এ  উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের এই গতিশীলতা ধরে রাখাই হলো এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোনাগাঁও হোটেলে এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল ব্যাংকের সহযোগিতায় ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (সিএএমপিই) সংলাপটির আয়োজন করে।

সিএএমপির নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের এশিয়া অঞ্চলের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক জেসকো হেন্টছেল, বিশ্ব ব্যাংকের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন র্যামা, ব্যাংকটির বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহান্নেস জাট, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার, সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতারা।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এই সাফল্য এসেছে অপেক্ষাকৃত নিচুমাত্রার দক্ষতা ব্যবহার করে। যা দারিদ্য বিমোচন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া কৃষির আধুনিকায়ন ও মৌলিক মানব সম্পদ উন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিওদের সহায়ক ভূমিকা এই সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া, কর্মসংস্থানে নারীর ক্ষমতায়ন, রপ্তানি উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধিসহ ভৌত অবকাঠামো খাত বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়ারহাউস, ব্যাক টু ব্যাক এলসি প্রবর্তন, গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বাস্তবায়নে নানা সংস্থা গড়ে তোলাসহ রপ্তানিমুখী উৎপাদন চালু রাখার বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়ে প্রতিবেদনে। তবে এই গতিশীলতাকে ধরে রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্ব ব্যাংক। তাই অপেক্ষাকৃত অদক্ষ শ্রমিকদের কৃষিখাত থেকে শিল্পখাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অনেক সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলছে, ‘এই গতিশীলতা ধরে রাখতে অনানুষ্ঠানিক শ্রম বাজারের সমস্যাটি প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে। এর পর রপ্তানিখাত ও বিদেশে শিক্ষিত কর্মীর যে চাহিদা রয়েছে সেটি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া, উঁচু দক্ষতার কাজ পেতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সক্ষম করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আরও প্রসার ঘটাতে হবে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারত ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা অপেক্ষকৃত কম দক্ষ। এ সমস্যার উত্তরণের জন্য সুপরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাছাড়া শিক্ষার সকল স্তরে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত কর্মকাঠামো ও রূপকল্প করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ গৃহস্থালী বিভিন্ন কাজের সঙ্গে নিয়োজিত। এদের কোনো নগদ আয় নেই। অন্য দিকে ২২ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে, ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোগী পূর্ণসময় কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।   ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ বেকার ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ খণ্ডকালীন চাকরি করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এখনও পৃথিবীর ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মানুষ শুধু মজুরির জন্য কাজ করে। ১দশমিক ৫ বিলিয়ন কৃষিকাজে জড়িত, ১১৫ বিলিয়ন শিশু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছে। ২১ মিলিয়ন মানুষ বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার, ৯০ মিলিয়ন মানুষ দেশের বাইরে কাজ করছে। ৬২১ মিয়িলন তরুণ তরুণী কাজ কিংবা পড়ালেখা কিছুই করছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে কর্মসংস্থানের ধারা চলমান রাখতে আগামি ১৫  বছরে ৬০০ মিলিয়ন মানুষের জন্য কাজ সৃষ্টির প্রয়োজন হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ, ফ্যাশন ডিজাইনের আরও অগ্রগতি সাধন, সুশাসন, সঠিক নীতিমালা প্রনয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ রাজনৈতিক স্থিতিমলিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা জরুরী বলে মনে করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম  পোশাক খাতে আরও উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্যাশন ডিজাইন, উৎপাদনশীলতার বিভিন্ন বিষয় খোলা জরুরী বলে মনে করেন। আর এটি করতে পারলে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশ এগিয়ে যবে বলে মনে করেন তিনি।