এপ্রিলে ৪ শতাংশ রেমিটেন্স কমেছে

0
116
টাকা
টাকা (ফাইল ছবি)

Takaঅর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠানো অনেক কমিয়ে দিয়েছে। গত মার্চ মাস রেমিটেন্সের প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও এপ্রিল মাসে আবার কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মার্চের তুলনায় রেমিটেন্স কম এসেছে ৫ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। যা শতকরা হিসেবে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে মোট রেমিটেন্স পাঠিয়েছে ১২৩ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। আর মার্চ মাসে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল ১২৮ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রেমিটেন্স কম এসেছে ৫ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশেরও বেশি।

এদিকে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেসরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানিতে অনীহা, সর্বোপরি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতায় চলতি অর্থবছরে রেমিটেন্সে নেতিবাচক ধারা চলছে। যার কারণে চলতি অর্থবছরে রেমিটেন্স ৩ শতাংশ কমবে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে এ অর্থবছরে রেমিটেন্স কমলেও সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় আগামি অর্থবছরে রেমিটেন্সে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছে তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলার। ৩০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৮০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার এবং দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার।

আলোচ্য সময়ে প্রবাসি বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৩১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ কোটি ৬২ লাখ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে ১১ কোটি ২ লাখ মার্কিন ডলার।

এপ্রিল মাসে বিশেষায়িত বিডিবিএল ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো রেমিটেন্স পাঠায়নি প্রবাসিরা। এছাড়া নতুন কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও এখন রেমিটেন্স আসা শুরু করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছিল। এর  আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার।

এসএই/সাকি