উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প, ব্যয় ৯৫ কোটি টাকা

0
151
Govt_logo_
বাংলাদেশ সরকারের লোগো

Govt_logo_মৌসুমি অভাবপীড়িত উত্তরাঞ্চলের অতিদরিদ্র বৃহত্তর জনগোষ্টিকে আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র বিমোচন সম্ভব বলে মনে করছে সরকার। এ লক্ষ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ‘উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি (২য় পর্যায়) হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ওইসব অঞ্চলের জনগণের দক্ষতাবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মৌসুমি বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটি ৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০০৭ থেকে জুন ২০১৩ সাল নাগাদ বাস্তবায়িত হয়। উত্তরাঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ৩৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটির কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে এ প্রকল্পের ২য় পর্যায় প্রণয়ন করা হয়েছে।

জানা যায়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ওই এলাকার দারিদ্রতা হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ওইসব এলাকার লোকজনের ক্রয় ক্ষমতাবৃদ্ধি, গরিব উৎপাদনকারীদের তৈরি পণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা সৃষ্টি এবং স্থানীয়সম্পদ ও জনশক্তিকে অকৃষি এবং অন্যান্য কার্যক্রমে নিয়োজিত করার ব্যবস্থা করা যাবে।

এছাড়া প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৩৩ হাজার ৬’শ জন সুবিধাভোগিকে ট্রেডভিত্তিক ৬০ দিনমেয়াদী দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রকল্পভুক্ত ইউনিয়নে সার্ভে কার্যক্রম, সুফলভোগিদের ৩০ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ এবং একটি স্থায়ী প্রদর্শনী কাম বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপ্যান্ডেচার সার্ভে প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাতটি বিভাগের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগের দারিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে দারিদ্রের হার ২৭ দশমিক ৭ ভাগ। এ বিভাগে নদীভাঙ্গন, বন্যা, খরা, বিস্তীর্ণ বালুচর ইত্যাদির কারণে দারিদ্রতা, ক্ষুধা, রোগ-বালাই, বেকারত্ব এবং অপুষ্টির প্রকোপ সর্বজন স্বীকৃত। মৌসুমি খাদ্যাভাব, নদীভাঙ্গন, কর্মসংস্থানের অভাব, অগ্রিম শ্রম বিক্রি, খাদ্য নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা এবং চিকিৎসার অভাব এ অঞ্চলের মানুষের দারিদ্রের অন্যতম কারণ।

এইচকেবি/সাকি