পদ্মায় নৌকাডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, নববধূর খোঁজে অভিযান চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
141

রোববার (৮ মার্চ) তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে রাজশাহীর পদ্মানদীতে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় নৌকাডুবির ঘটনার পর শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ নয়জনের মধ্যে ছয়জনের এবং রোববার দুপুরে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নববধূ নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় নৌকাটি নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে অপরটি উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে রুবাইয়া আক্তার স্বর্ণার (১২) মরদেহ উদ্ধার করেন জেলেরা। জাল ফেলা হলে তার মরদেহ উঠে আসে। রুবাইয়ার বাবার নাম রবিউল ইসলাম রবি। তাদের বাড়ি পবার আলীগঞ্জ মোল্লাপাড়ায়। সে কনের ফুপাতো বোন এবং অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।

এরপর বিকেল ৩টার দিকে রাজশাহীর চারঘাটে আরও একটি মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহটি নিখোঁজ নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার খালা আঁখি খাতুনের (২৫) বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম।

আঁখি খাতুনের বাবার নাম আবুল হোসেন। তার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামে।

এই নিয়ে পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এখন নিখোঁজ রয়েছেন নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমা (২০)।

এদিকে সর্বশেষ ব্যক্তিটিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর পদ্মানদীতে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম।

কনে পূর্ণিমা রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে। দেড় মাস আগে পদ্মার ওপারে একই উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে রুমন আলীর (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান পরে হয়। গত বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল।

বরপক্ষ কনেকে সেদিন চরে নিয়ে যায়। প্রথা অনুযায়ী, পর দিন শুক্রবার কনেপক্ষের লোকজন বর এবং বউকে আবার কনের বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার বিপরীতে মাঝপদ্মায় দুটি নৌকায় ডুবে যায়। দুটি নৌকায় প্রায় ৫০-৫২ যাত্রী ছিলেন।

নৌকাডুবির পর ছোট আরেকটি নৌকা এবং বালুবাহী একটি ট্রলার ভাসমান মানুষদের উদ্ধার করে।

অর্থসূচক/এমএস