যুদ্ধাপরাধ মামলায় কুড়িগ্রামে ১৩ রাজাকার গ্রেফতার

0
61

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়েরকৃত মামলায় কুড়িগ্রামে ১৩ রাজাকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আকস্মিক এ অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইসিটি বিডি মিসকেস ১/২০২০-এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ১২ জন ও রাজারহাট উপজেলা থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া ভবেশ গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের পুত্র আকবর আলী (৭৮), রামখানা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র শাহাজাহান আলী(৬৮), ডোবার পাড় গ্রামের মৃত নজিম উদ্দিনের পুত্র সাইদুর রহমান ওরফে সৈয়দ মাওলানা (৬২), উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের মৃত আ. জব্বারের পুত্র নুর ইসলাম(৫৮), ইরফান আলীর দুই পুত্র ইছাহাক আলী (৬৩) ও ইসমাইল হোসেন (৬৬), মৃত আমান উল্লার পুত্র ওসমান আলী (৬৮), মতিউল্লার পুত্র আব্দুর রহমান(৬৩), বছিয়ত উল্লার পূত্র সোলেমান আলী (৭২),আ. জব্বারের পুত্র আব্দুর রহিম (৬৩), মৃত ফজল উদ্দিনের পুত্র আ. কাদের (৬৫) ও উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের দিগর মালতিবাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন সরকারের পুত্র মফিজুল হক (৮০)।

এদিকে একই মামলায় শরফ উদ্দিনের পুত্র মকবুল হোসেন দেওয়ানীকে (৭০) জেলার রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের নলকাটা বালাকান্দি গ্রাম থেকে গেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাগারকুটি, রামখানা, নীলকন্ঠসহ আশপাশের গ্রামে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, রাজাকার-আলবদর ও স্থানীয় দালালরা মিলে প্রায় সাতশত নিরীহ-নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় ওই গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদালতে হাজির করা হবে।

অর্থসূচক/কেএসআর