দিল্লিতে ফের মসজিদে আগুন, নামাজরত মুসল্লিদের গুলি-মারধর

0
32

মুসলিম বিদ্বেষী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতের দিল্লিতে চলমান দাঙ্গায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। টানা চারদিন ধরে সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত নিহত সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ২০০ এর বেশি। নিহতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই রয়েছেন। তবে মুসলমানের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এছাড়া পুলিশ কর্মী, গোয়েন্দা বিভাগের লোকও নিহত হয়েছেন।

এদিকে চলমান সহিংসতার বলি হিসেবে দিল্লির মুস্তাফাবাদের ব্রিজপুরি এলাকায় আরেকটি মসজিদে আবার হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুধু তা-ই নয়, মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি চালানো এবং রড দিয়ে বেধড়কভাবে পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী। এছাড়া সেখানকার মাদ্রাসা, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা চালাতে বাদ রাখেনি উগ্রপন্থীরা।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেখানকার অরুণ মডার্ন পাবলিক সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ওই স্কুলের শিক্ষক কাসিম জাহিদ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, এ দিন বিকেল ৪টার পর স্কুলে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। স্কুলের আসবাবপত্র এবং কম্পিউটার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে কয়েকটি গাড়ি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, ওই স্কুলে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। স্কুলটির পেছনেই রয়েছে মসজিদ। বিকেলে স্কুলে হামলা চালানোর পর সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এরপরও সংঘর্ষ থামেনি। বেশ কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাত ৮টায় মসজিদে এশার নামাজ শুরু হলে সেখানে ঢুকে মুসল্লিদের রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে গুলিও চালানো হয় মুসল্লিদের ওপর।

এ সময় ১২ থেকে ১৫ জন মুসল্লিকে পেটানো হয়। একইসঙ্গে ইমামকেও গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ওই মসজিদ আর স্কুলের পাশে থাকা একটি মাদ্রাসায়ও অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রপন্থীরা।

পরে সেখানে সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণে গেলে দেখতে পান, মসজিদে রক্ত পড়ে আছে। একইসঙ্গে পুড়েও গেছে অনেক। এ থেকে বাদ যায়নি পবিত্র কোরআন শরিফও। মেঝেতে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা গেছে কোরআন শরিফের পাতা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

অর্থসূচক/কেএসআর