অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

0
130
foreign-workers

foreign-workersঅভিবাসী শ্রমিকরা প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠাচ্ছে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। কিন্তু এতো অবদান সত্ত্বেও তাদের অধিকার নিশ্চিত নয়। তারা ন্যায্য মজুরি, চিকিৎসা ভাতাসহ অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

এছাড়া নারীশ্রমিকদের ওপর চলে নানা ধরনের হয়রানি। আছে দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হওয়ার অনেক ঘটনা। এ সব সমস্যার সমাধান এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা অভিবাসী শ্রমিকদের নানা সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান বক্তারা।

আগামি ১২ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত  সুইডেনের স্টোকহোমে অনুষ্ঠেয় জিএফএমডি’র (গ্লোবাল ফোরাম অব মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সভাকে সামনে রেখে ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠেয় সভায় অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাবেন তারা।

বিভিন্ন অভিবাসন এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, কিছু বেসরকারি সংস্থার নেটওয়ার্কস, তৃণমূল সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং যৌথভাবে ফোরামে আলোচনার কৌশল ঠিক করতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

স্টোকহোমের সভাটি তিনটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। ১২ থেকে ১৩ মে সুশীল সমাজ প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা, ১৪ মে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদের সভা এবং ১৫ থেকে ১৬ মে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে সভা হবে।

মতবিনিময় সভায় জানা যায়, ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা শেষ হওয়ার পর যে ধারণযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হবে সেখানে অভিবাসনকে গুরুত্ব দেওয়া, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ভাতা পাওয়া, নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা, দালালদের দৌরাত্ম কমানো, মানব পাচার বন্ধ করা, সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান, ২০০৯ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করার বিষয় সমূহ ফোরামে বাংলাদেশ আলোচনা করবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহে কাফেলা পদ্ধতি শিথিল এবং পাসপোর্ট নিয়ে আকামা দেওয়া এবং আটটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশর যে চুক্তি হয়েছে তা যেন মান্য করা হয় সে বিষয়গুলোর ওপরও ফোরামে আলোচনা করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশা ব্যক্ত করে বক্তরা বলেন, আগে শ্রম আমদানিকারক রাষ্ট্রসমূহ এই ফোরামে যোগ দিত না কিন্তু এখন তারা যোগ দেওয়ায় আলোচনা অনেক ফলপ্রসূ হবে এবং ফোরামের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যা সমাধান করা যাবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি ব্যুরোর সহকারী মহাসচিব মো. জাবেদ আহমেদ, আরএমএমআরইউ -এর সমন্বয়ক ড. সিআর আবরার, আরএমএমআরইউর কর্মসূচি সমন্বয়ক মিস মেরিনা সুলতানা, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাঈদ সাইফুল হক, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন কর্মীরা।

ইউএম/