পৈত্রিক নিবাসেই স্থাপিত হবে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা

0
98

suchitra-sen.homeপাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক নিবাসে স্থাপিত হবে ‘সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’।রোববার সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত একটি লিভ টু আপিল খারিজ দিলে ‘সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’ প্রতিষ্ঠার বাধা কেটে যায়। বহু বছর ধরে ওই বাড়িটিতে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

২০০৯ সালের ১২ জুন পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ওই বাড়ি থেকে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। ওই বছরের ২২ জুন এ নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট। ২০১১ সালে এ রিট খারিজ এবং বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদনের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট। রোববার এ লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

 আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ.জে. মোহাম্মদ আলী।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা জানান, বিচারপতি এস.কে. সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এখন ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের দখলমুক্ত করে বাড়িটিতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনে আর কোনো বাধা রইল না।

 গত ১৮ মার্চ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জাতীয় সংসদকে জানান, সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়িটি এখন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছ। ওই বাড়িটি দখলমুক্ত করে সুচিত্রা সেনের স্মৃতিতে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সুচিত্রা সেনের সব কয়টি চলচ্চিত্র সংগ্রহ, স্থিরছবি, প্রতিকৃতি, প্রকাশনা সংগ্রহ করা হবে।
গত ১৭ জানুয়ারি কলকাতায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা সদর উপজেলার গোপালপুর মহল্লায় হেমসাগর লেনের পৈত্রিক বাড়িতে জন্ম নেয় সুচিত্রা সেন। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ওই বাড়িতেই। ১৯৫১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুচিত্রা সেনের বাবা পাবনা থেকে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান।

 সে সময় জেলা প্রশাসন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক ভিটা গোপালপুর মৌজার এসএ ৯৯ খতিয়ানভুক্ত ৫৮৭ এসএ দাগের ০.২১২৫ একর ওই বাড়িটি রিক্যুইজিশন করেন।

 এরপর থেকে বাড়িটিতে সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বসবাস করতে থাকেন এবং সর্বশেষ ছিলেন একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের সময়ে স্থানীয় কতিপয় জামায়াত নেতা বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত করে লিজ নিয়ে ‘ইমাম গাজ্জালি ইন্সটিটিউট’ নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে বাড়িটি দখলে রেখেছে জামায়াত পরিচালিত ‘ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট’।