শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমা জরুরি: বিলস

0
112
garments-worker
পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা

garments-workerমালিকরা নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করলে পোশাক শিল্পে আর কোনো অস্থিরতা থাকবে না বলে জানালেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নেতারা।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত মে দিবস উপলক্ষে ‘মে দিবসের চেতনা ও নির্মাণ শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদের গোষ্ঠী জীবন বিমা সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিমা করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো যায়। তাই প্রত্যেক শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তায় বিমা করা জরুরি।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম খান।

এ সময় তিনি নির্মাণখাতে কাজের ধরন ও কর্মপরিবেশ, নির্মাণ ও কাঠশিল্প ন্যূনতম মজুরিবোর্ড ঘোষিত সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি, বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পখাত, নির্মাণ শ্রমিকের মজুরি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা, নির্মাণ শ্রমিকের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান, সামাজিক নিরাপত্তা গোষ্ঠী বিমাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখনও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই বাজার অর্থনীতির মধ্য দিয়ে শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের কল্যাণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের চাকাকে গতিশীল করা সম্ভব।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার বলেন, বিমা কোনো সাহায্য নয় আপনার অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও অনেকের দক্ষতা রয়েছে। তাই তাদের দক্ষতা নিরূপনের প্রক্রিয়া চলছে। ৮টি সেক্টরে এ বিষয়ে কর্মদক্ষতা নিরূপনের ও বিভিন্ন ভাগে সনদপত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাবে।

অন্য বক্তারা বলেন, গত নবছরের ভেম্বর মাসের ১৮ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এই বিমার কার্যক্রম। এতে নিএকজন র্মাণ শ্রমিক সরকারিভাবে নিবন্ধিত হয়ে বিমা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। যা তার ভবিষ্যত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাই বিমার সুরক্ষা আওতায় আনতে নির্মাণ শ্রমিকদের সরকারিভাবে নিবন্ধন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রত্যেক নির্মাণ শ্রমিককের জীবন বিমা মানেই তাদের নিহত বা আহত হওয়ার ক্ষেত্রে অসহায় পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিমা করলে যে সকল সুবিধা রয়েছে তা হলো- দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে ২ লাখ টাকা, স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করলে বা এক হাত এক পা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হলেও সে পাবে ২ লাখ টাকা। তাই বিমা সকল শ্রমিকের জন্যই জরুরি।

বিমার ব্যাপারে বক্তারা পরামর্শ দিয়ে বলেন, জেলাভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিক সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন ও সমবায় সমিতি চিহ্নিত করা, বিমার সুফল জানানো ও বিমা পরিশোধের দৃষ্টান্ত প্রচারণা, ট্রেড ইউনিয়নকে প্রশিক্ষিত করা, ট্রেড ইউনিয়নকে নির্দিষ্ট অনুপাতে এজেন্সি কমিশন প্রদান করারও পরামর্শ দেন তারা।

বিলস এর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ফয়জুর রহমান, বিলসের  যুগ্ম-সম্পাদক জাফরুল ইসলাম, এফইএস (জার্মানি) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি হেনরিক মাইহ্যাক, জাতীয়তাবাদ শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, বিলসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাধারণ-সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগের সাধারণ-সম্পাদক শেখ মো. নুরুল হক প্রমুখ।

জেইউ/সাকি