পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে: ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
201

সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে। সেই সংসদে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তারা দেশ পরিচালনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, এখন যারা আছে, তাদের লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। পদত্যাগ পদত্যাগ বললে হবে না। পদত্যাগ না করলে লাথি মেরে নামাতে হবে। ওই সব ভাষায় না হলে, তাদের হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে।

আজ শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাসের প্রতিবাদে তার মুক্তির দাবিতে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে কেউ দেশে রাজবন্দি হবে এটা শুনতে কেমন লাগে বলে উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, আজ বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সভা করতে হবে এটা অকল্পনীয় ও দুঃখের বিষয়। এখন সভা-সমাবেশে নয়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামবো। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে মাঠে নামতে হবে। চলেন আমরা মালিক হিসেবে ভূমিকা রাখি। যারা আমাদের ক্ষমতাকে আত্মসাৎ করেছে তাদের চিহ্নিত করি। আমাদের রাস্তায় নেমে বলতে হবে দেশে গণতন্ত্র থাকবে, সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে।

দেশে এখন নির্বাচনের নামে প্রহসন হয় দাবি করে ড. কামাল বলেন, তারা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে জবরদখল করে চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সব মানুষের পক্ষে বলতে হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের ইতিহাসে দেখেছি, জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করে কেউ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। শাসকরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। আজ যারা স্বৈরাচার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখা দরকার যে বাঙালি কখনও স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি। আজ আমরা সবাই চাই, শান্তিপূর্ণভাবে দেশটাকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

কামাল হোসেন বলেন, তারা কী কী প্রচার করছে, অমুক বর্ষ এভাবে উদযাপন করবে। সবাইকে একভাবে উদযাপন করতে হবে। দেশের মালিক হিসেবে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে এটা একটা প্রহসন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার হচ্ছে, দেশে গণতন্ত্র থাকবে। প্রকৃত অর্থে নির্বাচিত সদস্যরা দেশ পরিচালনা করবেন। সেখানে আজকে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। মালিক হিসেবে দেশের জনগণকে যেন সম্মান জানানো হয়। মালিক হিসেবে দেশের জনগণ যেন ভূমিকা রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়ে জনগণের এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের জনগণকে বঞ্চিত করে সরকার দেশ চালাচ্ছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ক্ষমতা আত্মসাৎ করে, স্বৈরতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, যেভাবে দুর্নীতি, কুশাসন, যেভাবে মানুষের বিরুদ্ধে অত্যাচার চলছে, লাখ লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া এটা আর মেনে নেওয়া যায় না। এমন স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও শহীদদের প্রতিও অসম্মান জানানো হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

অর্থসূচক/কেএসআর