পুঁজিবাজার পতনে বিএসইসির অনুসন্ধান : ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর শুনানি হচ্ছে না 

0
152
DSE_BSEC, ডিএসই-বিএসইসি
ডিএসই-বিএসইসি লোগো

পুঁজিবাজারে সম্প্রতি দরপতনের পেছনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের এক অংশ জড়িত বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুসন্ধানে উঠে আসে। এ কারণে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে (সিআরও) কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছিল বিএসইসি। এবং একই সাথে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে শুনানিতে অংশ নিতে ডেকেছিল। তবে আপাতত আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের শুনানি হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

DSE_BSEC, ডিএসই-বিএসইসি
ডিএসই-বিএসইসি লোগো

সূত্র মতে, বিএসইসি থেকে ডিএসইকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শুনানির বিষয়টি স্থগিত করা হয়। এবং শুনানির পরবর্তী তারিখ আবার চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে। তাই আপাতত ডিএসইর শুনানি হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, বাজারের অস্বাভাবিক পতনের কারণ অনুসন্ধানে বিএসইসি ২০১৯ সালের ২১ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি বাজারের পতনের সঙ্গে ডিএসইর সম্পৃক্ততা পায়।

এরমধ্যে রয়েছে- ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য মূল্য সংবেদশীল কিছু তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। এমনকি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এসব মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করা হয়। যা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তাদের ওইসব মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পরে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ ওই সব তথ্য প্রকাশ নির্ভর করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে।

বিএসইসির তদন্ত কমিটি জানায়, ডিএসইর সিআরও নেতৃত্বে থাকা রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিভাগটি বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেনি। তারা আইন-কানুন, কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে সেমিনার, গণমাধ্যম এমনকি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখেনি।

বিএসইসি তদন্তে পেয়েছে, এসিআইয়ের গত কয়েক বছরের আর্থিক বিবরণী নিয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসই ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়াকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন- ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মো. রকিবুর রহমান, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, স্বতন্ত্র পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী, প্রফেসর ড. মো. মাসুদুর রহমান এবং ডিএসইর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবদুল মতিন পাটোয়ারী।

এই কমিটির জানানো তথ্যে এসিআইয়ের সাবসিডিয়ারি অনেক লোকসানে এবং মূল কোম্পানির মুনাফা খেয়ে ফেলছে বলে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যা ডিএসইর আইনগত সক্ষমতার মধ্যে ছিল না।

বিএসইসি বলছে, এসিআই লিমিটেড ইস্যুতে ডিএসই সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের খামখেয়ালিপনায় কোম্পানিটির শেয়ার দরপতন হয়। যা মূল্য সূচকের পতনে ভূমিকা রাখে।

বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এসিআই নিয়ে ডিএসইর গঠিত কমিটির কিছু সদস্য মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্যে জানায়- এসিআই কৃত্রিম আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে। এ ছাড়া ডিএসইকে দেয়া এসিআইয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না। ফলে পুনরায় তদন্তের জন্য রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হবে। যা ২০১৯ সালের ২৯ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যা ছিল অনুমান নির্ভর এবং সিকিউরিটিজ আইনের ব্যত্যয়। কিন্তু ডিএসইর ওই তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে জনসম্মুখে কথা বলতে পারে না।  ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জুন ১৯ পর্যন্ত সময়ে এসিআইর শেয়ারের দাম কমে ৩৩ শতাংশ। ওই সময় ডিএসইর তদন্ত কমিটি গঠন এবং কাজ করেছিল। যা এসিআইয়ের শেয়ারের দরপতনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে ইঙ্গিত করে। ওই কমিটি এসিআই সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করার ফলেই কোম্পানিটির শেয়ার দামে ব্যাপক পতন হয়। মূল্য সূচকে বড় নেতিবাচক ভূমিকা রাখে।

এতে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জ লিস্টিং রেগুলেশন-২০১৫ এর ৫৪ (১) ব্যত্যয় ঘটেছে। অনিয়মের মাধ্যমে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশন-২০১৩ এর ৯ (৫) লঙ্ঘন করেছে। এ ছাড়া ডিএসইর সিআরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (বোর্ড অ্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন) রেগুলেশন-২০১৩ এর ১৬ (৩) লঙ্ঘন করেছে, ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন-২০১৫ এর ৫৪ (১) লঙ্ঘন করেছে এবং ডিএসইর ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশন-২০১৩ এর ৮ (২) ও ৯ (৫) লঙ্ঘন করেছে। এসব আইন ভঙ্গের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর প্যানেল প্রভিশন অব সেকশন ২২ লঙ্ঘন করা হয়েছে।