ছাড়া পেয়েছেন সাইফুল

0
101
ব্যবসায়ী সাইফুল

Saiful Siddhirgonjঅপহরণকারীদের খপ্পর থেকে জীবিত ফিরে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। অপহরণের প্রায় ২৬ ঘন্টা পর শুক্রবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে অপহরণকারীরা তাকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনের সড়কে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় ব্যাক্তিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে র‌্যাব-৪ এর একটি দল তাকে সেখান থেকে সাভার ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে ব্যাবসায়ী সাইফুল ইসলামকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। তার অপহরণের ঘটনায় ফুঁসে উঠে সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ। এর ২২ দিন আগে অপহৃত হন তার ভায়রা ব্যবসায়ী রহমাত উল্লাহ। তাকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এমনকি তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়ার নজরুর ইসলামসহ সাত ব্যাক্তির অপহরণ ও বুড়িগঙ্গায় লাশ পাওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অপহৃত হন ব্যবসায়ী সাইফুল। অপহরণকারীরা তার মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সব মিলিয়ে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কিত হয়ে পড়েন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা। মরিয়া হয়ে তারা রাস্তায় নামেন। সাথে যোগ দেয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার সকালেও তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। সাইফুলকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণেই হয়তো ভয় পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে ফেল রেখে পালিয়ে যায়।

সাইফুলকে উদ্ধারের বিষয়ে অবশ্য পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হাসান দাবি করেছেন-তাদের একটি দল সাইফুলকে বহনকারী অপহরণকারীদের গাড়ি অনুসরণ করছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে এক পর্যায়ে তাকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে অপহরণের শিকার সাইফুল নিজে বলেছেন, তাকে অপহরণের পর চোখ বেঁধে গাড়িতে করে ঘোরানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাকে অপহরণকারীরা স্মৃতি সৌধের সামনের সড়কে বিসমিল্লাহ হোটেলের কাছে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। তখন তিনি স্থানীয় লোকদেরকে নিজের পরিচয় জানিয়ে তাদের সহায়তা চান। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে র‌্যাব তাকে ক্যাম্পে নিয়ে আসে।