তরুণদের বিষয়ভিত্তিক লেখাপড়া করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

0
39

তরুণ সমাজকে বিষয়ভিত্তিক লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদেরকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগোতে হবে। সাধারণ লেখাপড়া যেটা আমরা করেছি সেটা ঠিক আছে। আমরা সবাই চাই দেশের উন্নয়ন করব। কিন্তু দেশের উন্নয়ন করতে হলে তো আমাদেরকে আগে শিক্ষিত হতে হবে। এখনকার চাহিদা মেটাতে গেলে যেই ধরনের লেখাপড়া দরকার সে লেখাপড়া যদি আমরা না করতে পারি, শিক্ষিত যদি না হতে পারি, তাহলে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবো না এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা হারিয়ে যাব।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই এখন পৃথিবীতে সবচেয়ে সেরা তারাই কিন্তু এখন ইন্টিগ্রেটেড। আপনারা আমাজনের নাম শুনেছেন। এই আমাজনের মালিক কিন্তু এক সময় ইন্টারনেটে বই বিক্রি করতেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলার। তিনি প্রতি মিনিটে আমাদের দেশের ৪৮ কোটি টাকা উপার্জন করেন। সেটা কিভাবে সম্ভব হলো? তিনি বিরাট আকারে ইন্ডাস্ট্রি করেন নাই, শুধু টেকনোলজির উপর ভিত্তি করেই এটা করেছেন। আমাজনের মালিক এটা করেই ই-কমার্স খাতকে অনেক শক্তিশালী করেছেন। এখন মেইল খুললেই এই প্রোডাক্টগুলো আমাদের সামনে চলে আসে। আগামীতে কিন্তু আরও সুন্দর সুন্দর আইডিয়া আসবে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গেলে আমরা টেকনোলজি ছাড়া এগোতে পারব না।

অর্থমন্ত্রী তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের সামনে সুন্দর একটি বাংলাদেশ অপেক্ষমাণ। একটি সুন্দর পৃথিবী অপেক্ষমাণ। একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা অপেক্ষমাণ। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে আর চাকরির জন্য কষ্ট করতে হবে না। আমাদের ১০০টি ইকোনমিক জোনে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আরো ১০০টি ইকোনমিক জোন করার পরিকল্পনা চলছে। ২০০ ইকোনমিক জোন হয়ে গেলে দেশের ৩ কোটি মানুষের চাকরির সুযোগ হবে। এগুলো সরাসরি চাকরি হয়ে যাবে। কাউকেই আর চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তারা ভালো ভালো জব করতে পারবে এবং দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডে নির্বাচন হয়েছে। সেই দেশের দুইটা দল আছে। দুই দলই তারা তাদের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ক্ষমতায় গেলে তাদের গ্রাম পর্যায়ে ব্রড ব্র্যান্ড সংযোগ দেবে যেটা আমরা অনেক আগেই দিয়েছি। আমরাও পিছিয়ে নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথম দুইটি শিল্পবিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে পারি নাই। আমরা এখন তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে ভালোভাবে সম্পৃক্ত হয়েছি। এখনো তৃতীয় শিল্পবিপ্লব চলছে। আমাদের সামনে এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য এডুকেশনের পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে।

সাবেক এই পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের জনশক্তিকে এখন ন্যানো টেকনোলজি শেখাতে হবে। ন্যানো টেকনোলজি রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ও ব্লকচেইন টেকনোলজি। এই ধরনের যেসব টেকনোলজি আছে সেগুলো আমাদেরকে শিখতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে শেখাতে হবে। এই জাতীয় টেকনোলজিগুলো ক্লাসরুমে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে শেখাতে হবে।।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মুস্তফা কামাল বলেন, আপনারা যদি এ কাজগুলো করেন তাহলে সরকার প্রস্তুত। এই জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হবে সেটা দেওয়ার জন্য সরকার প্রস্তুত। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অংশগ্রহণের জন্য আমাদেরকে এগুলো শিখতে হবে। এর জন্য আমাদের তরুণ সমাজকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। এই টেকনোলজি শেখার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ক্লিনার আনতে হবে। প্রয়োজনে নিজেদের কেউ বিদেশ যেতে হবে।

অর্থসূচক/এএইচআর