দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে পাইলট প্রকল্প, বাড়বে বৈদেশিক আয়

0
164
garments-worker
পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা

garments-workerদেশের অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্পাদন খাতে ১৫ লাখ শ্রমিকদের কাজে সক্ষম করে গড়ে তোলা যাবে।

এছাড়া প্রশিক্ষিত এসব শ্রমিকদের পাঠনো যাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। এতে করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও বাড়বে।

 

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায়, দক্ষশ্রমিক তৈরিতে সরকার ১৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকের অভাব পুরণে দেশের ক্রমবর্ধমান উত্পাদন খাতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি আগামি অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ১০ বছর ধরে চলবে।

সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। বাকি ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার যোগান দেবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক প্রশিক্ষণ পাবে। প্রশিক্ষণ পাওয়া শ্রমিকরা যৌথভাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি উত্পাদন খাতে চাকরির সুযোগ পাবে।

জানা যায়, সরকার সম্প্রতি নতুন এ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। যা বর্তমান সরকারের নেওয়া ৩য় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প। এটি সরকারে বহুল সমালোচিত জাতীয় সেবা প্রকল্প এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের অধীন।

যদিও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সেবা প্রকল্পতে (এনএসপি) ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। সরকার ৭৩ হাজার প্রশিক্ষিত মানুষকে চাকরি দেওয়ার জন্য ৮১৬ কোটি টাকা খরচ করেছে। যা দেশের তিনটি জেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে।

সুত্রে আরও জানা যায়, নতুন প্রকল্পে বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের প্রতি বেশি দৃষ্টি দেওয়া হবে। কেননা সেখানে দক্ষ শ্রমিকদের অদক্ষদের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি বেতন দেওয়া হয়। তাই, মধ্য প্রাচ্যের তেল অধ্যুষিত অঞ্চলে কর্মরত স্বল্প প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের পরিবর্তে যদি দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ করা যায় তাহলে দেশের বৈদেশিক আয় আরও বাড়বে বলে মন্ত্রণালয় মনে করছে।

দেশে পরিচালিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। উৎপাদন খাতে বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি, চামড়া, পোশাক, হালকা শিল্প এবং ইলেক্ট্রনিক্স খাতে দক্ষ শ্রমিকের তীব্র অভাব রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে দেশে বসবাসরত প্রায় ১ লাখ অবৈধ বিদেশি। এসব অবৈধ অভিবাসীরা দেশের গার্মেন্টস এবং প্রযুক্তি খাতে কাজ করে যাচ্ছে।

এইচকেবি/এআর