কুমিল্লায় খাল রক্ষা বাঁধের মাটি বিক্রির অভিযোগ

0
80
comilla picture

comilla pictureকুমিল্লায় গোমতী নদীর সোনাইছড়ি খালরক্ষা বাঁধের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

দুই মাস ধরে খালের ১৭ কিলোমিটার এবং বাঁধসংলগ্ন দুই কিলোমিটার এলাকা থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় আগামি বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি নেমে এলে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এতে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমির ফসল ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়বে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাটিয়ারা, চৌয়ারা, চাষাপাড়া, রায়পুর, ভুবনঘর ও পিপুলিয়া গ্রামে খালের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় মাটি কাটা হচ্ছে। পাড়সংলগ্ন বাঁধও কাটা হচ্ছে।

এলাকার অনেকে অভিযোগ করেন, সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, মাটিয়ারা গ্রামের সুমন মিয়াসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী এই মাটি বিক্রি করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটা ও বসতবাড়িতে। এতে করে খালের দুই পাড়ের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড় থেকে পানি গোমতী নদী হয়ে সোনাইছড়ি খালে আসে। গোমতী নদীর কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার থেকে সোনাইছড়ি খালটির সৃষ্টি হয়েছে। খালটি সদর দক্ষিণ উপজেলার টঙ্গীরপাড় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে নদীর পানি বেড়ে গেলে ওই খাল উপচে আশপাশের গ্রামের ফসলি জমি তলিয়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৯৮৭ সালে খালসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণ কুমিল্লা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিটি নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সংগঠনের আন্দোলনের কারণে ১৯৯৬ সালে সোনাইছড়ি খালের দুই পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে জনগণের ফসল ও বাড়িঘর রক্ষা পায়। বর্তমানে ওই খালের বাঁধের উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সুমন মিয়া বলেন, ‘আমি মাটি কিনে নিয়েছি চৌয়ারা এলাকার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসানের কাছ থেকে।’ হাসান বলেন, ‘আমরা যারা সরকারদলীয় লোক, তারা মাটি কেটে বিক্রি করছি।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক জবাব দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল আমিন বলেন,  ‘সোনাইছড়ি খালে মাটি কাটা হচ্ছে কি না তিনি তা জানেন না। সেখানে মাটি কাটার জন্য কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।’

কেএফ