নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহবান ব্যবসায়ীদের

ইউরোপের বাজারে ভারতীয় সবজি

0
67

indian_mango_reuter_360_1ভারতের আমসহ ফল ও সবজির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের(ইউ) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহবান জানিয়েছে দেশটির ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে আসা এসব ফল ও সবজিতে পোকার আক্রমণের অভিযোগ ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ)। তাই নিজেদের কৃষি উৎপাদনের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেই আগামিকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশটি থেকে এসব কৃষিপণ্য আমদানি সাময়িক নিষিদ্ধ করে ইউ।

এ ঘটনার একদিন পরই এর তীব্র আপত্তি করে তা তুলে নেওয়ার জন্য আহবান করেছে ভারতের ব্যবসায়ী মহল। তাদের আশংকা, এতে করে ইউভুক্ত অঞ্চলসহ ভারতেও তাদের ব্যবসা সিঁকিতে ওঠবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে ভারত থেকে আসা এক চালানে এসব ফল ও শাকসবজিতে পোকামাকড় ও কীট পতঙ্গের আক্রমণের কারণে ভারতে থেকে তা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইউ। কিন্তু এ বিষয়ে তারা ভারতকে কিছু জানায়নি।

ভারতের পণ্য রপ্তানি বিষয়ক অধিদপ্তরের একজন মুখপাত্র অজয় শাহাই জানান, আমরা বিষয়টি গত মার্চ মাসেই জানতে পেরেছি। আর তখন থেকে এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তিনি বলেন, ইউ-এর পক্ষ থেকে দুইদিন আগে জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা আসার পরপরই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী তা তুলে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যদিও ভারত থেকে ই ইউ-তে মোট যে পরিমাণ তাজা ফল, শাকসবজি রপ্তানি হয়ে থাকে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়া পণ্যগুলি তার ৫ শতাংশও নয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে তা দেশের বাজারেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এর ফলে দেশেও এসব পণ্যর ব্যবসা ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হবে। এতে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি ।

অন্যদিকে ব্রিটেন বলছে, ভারত থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আম আমদানি করে তারা। আর্থিক অঙ্কের বিচারে এই ফলের বাজারের পরিমাণ বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ পাউন্ড। তাই নিষেধাজ্ঞার জেরে প্রচুর পাউন্ডের ব্যবসা মার খেতে বসেছে। তাছাড়া ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এম পি কিথ ভাজ নিজের সংসদীয় কেন্দ্র লিসেস্টারের ব্যবসায়ীদের অনুরোধ মেনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, এটা ইউরো-ননসেন্স। আমলাতন্ত্রের পাগলামো! শতকের পর শতক ভারত থেকে ব্রিটেনে আম আমদানি চলছে। যারা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে পড়বে, তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হল না একবার! এতে আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে চিঠি দিয়েও জানতে চেয়েছেন, ভারত সরকারের সঙ্গে কি নিষেধাজ্ঞা জারির আগে কোনও কথা বলা হয়েছিল?

এস রহমান/