সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৯৭৭ শতাংশ

0
96
Savings_Certificate
সঞ্চয়পত্র

Savings_Certificateচলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই’১৩-মার্চ’১৪) সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমলেও বেড়েছে নিট বিনিয়োগ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার এ খাতে নিট বিনিয়োগ ৯৭৭ শতাংশ বেড়েছে।

আলোচিত সময়ে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। জাতীয় সঞ্চয়পত্র পরিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সঞ্চয় পরিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১৭ হাজার ১৫০ কোটি ৬ লাখ টাকা বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ১৭ হাজার ৬০৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার। এ হিসেবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার।

কিন্তু আলোচিত সময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানোর পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় নিট বিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা ৯ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আগের বছর একই সময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গিয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছিল ১৬ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ।

২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সুদ হিসেবে পরিশোধ করতে হয় ৫ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার। আর চলতি বছর তা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৮৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এখানে নীট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৫০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সঞ্চয় ব্যুরোর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল পরিশোধ করা হয়েছে এক হাজার ৩৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার। আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৬৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। এ খাত থেকে নিট মুনাফা হয়েছে এক হাজার ২০৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার।

ডাকঘরের মাধ্যমে আলোচ্য সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৭১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৪০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নীট মুনাফা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক দিন থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ ছিল। এখন কিছুটা ভাল হলেও অনিশ্চয়তা থেকে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। ফলে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহারও কমিয়ে দিচ্ছে। আর তাই সাধারণ মানুষ বেশি মুনাফার আশায় টাকা ব্যাংকে রাখার চেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে।

তিনি আরও বলেন, সঞ্চয় পত্রের বিনিয়োগের কোন ঝুঁকি নেই তাই সল্প ও মধ্যম আয়ের লোকেরা এ খাতে বিনিয়োগ বেশি করে থাকে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়াতে গত বছরের মার্চ মাস থেকে সুদের হার কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার। পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর ও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে তিন শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদ্যমান রয়েছে। অবশ্য এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন শর্তের জালে ফেলে গ্রাহকের হাতে মুনাফা দেয়ার সময় ক্ষেত্রবিশেষে এই হার এক থেকে দুই শতাংশ কমে যায়।

গত ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করে। বিভিন্ন পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। বর্তমানে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। যাদের কাছ থেকে মুনাফা দেয়ার সময়ই কর কেটে নেয়া হয়। এই টাকা পরবর্তীতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সমন্বয় বা ফেরত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ সুযোগ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিতে পারছেন না। কারণ তাদের অনেকেরই করযোগ্য আয় নেই। আবার অনেকের টিআইএন নেই। তবে এসব সত্ত্বেও এ খাতের বিক্রি বাড়ায় সরকারের জন্য তা কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এসএই/