গ্রীষ্মের তাপদাহে উত্তপ্ত খুলনার ইলেকট্রনিক্সের বাজার

0
195
khulna
খুলনার মানচিত্র (ফাইল ছবি)

khulna-দিন যতো যাচ্ছে খুলনায় গরম ততোই বাড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এখানকার বাজারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম।

গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষকে ফ্যানের বাতাস, এসির হিমেল হাওয়া কিংবা ফ্রিজের ঠাণ্ড পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায়, সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়েছেন কিছু অসাধু বিক্রেতা।

দেশের অন্যান্য স্থানে কমবেশি বৃষ্টি হলেও খুলনায় বৃষ্টি নেই, বাতাসেও গতি নেই। মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে অস্থির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপদাহ কমাতে ইলেকট্রনিক পাখা কেনার জন্য ছুটছেন অনেকে।

এদিকে প্রচণ্ড গরমে মূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে ইলেকট্রনিক পণ্যে। ক্রয়মূল্য হাতের নাগালের বাইরে থাকায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই।

জানা যায়, ১৫ দিনের ব্যবধানে সকল ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। সিলিং ফ্যানের তুলনায় টেবিল ফ্যান বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী কোম্পানিগুলো টেবিল ফ্যানের যথাযথ সরবরাহ দিতে পারছে না। ফলে বাজারে এর সংকট রয়েছে। এছাড়া চার্জার ও এক্সজাস্টিং ফ্যান বেশি বিক্রি হচ্ছে। গেল কয়েক বছরের তুলনায় সিলিং ফ্যানের বিক্রি কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান বাজারে ব্রান্ডভেদে টেবিল ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ১০০০-১২৫০ টাকা পর্যন্ত। স্ট্যান্ড ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩২০০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ২২০০-২৬৫০ টাকা। জলি ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। গেল বছর যার মূল্য ছিল ৯০০- ৯৫০ টাকা পর্যন্ত। সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-২৯০০ টাকায়। গেল বছর যার মূল্য ছিল ১৩০০-২৮৫০ টাকা। এক্সজাস্টিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ৮৫০ টাকা। রিচার্জেবল ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ১৯০০-২২০০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ১৭৫০ টাকা। খাঁচা ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ৫০০-৬০০ টাকা। কার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৫০০- ৫৫০ টাকায়। গেল বছরে যার মূল্য ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা।

এছাড়া চার্জার লাইটের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন চার্জার লাইট বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়। গেল বছর যার মূল্য ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে মশা নিধনের র্যা কেট দাম। র্যা কেট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকায়। গেল বছর যার মূল্য ছিল ২৫০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতা মো. আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, অন্য বছরের তুলনায় গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে এ বছর অধিক হারে বেড়েছে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম। যা অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি খেলা।

মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে রাকিব ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী রাকিব জানান, ১৫ দিনের ব্যবধানে সংকটের অজুহাতে সকল ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি।

হাইকন ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ খানসুর বলেন- এসি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ কোনো পণ্যের মূল্য আমরা বৃদ্ধি করিনি। চাহিদানুযায়ী মালের সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ হার্ডওয়ার এন্ড মেশীনারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এনায়েত কবীর ডন বলেন, ক্রেতাদের সামর্থের কথা বিবেচনায় রেখে কোম্পানি ও তাদের ডিলারগণদের দায়িত্ব, সহনীয় পর্যায়ে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।

কেএফ