ইউরোপের বাজারে নিষিদ্ধ ভারতের সবজি; ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের

0
123

indian-vegetablesআগামি বৃহস্পতিবার থেকে ইউরোপের বাজারে ঢুকছে না ভারতের আমসহ ফল ও সবজি। ভারত থেকে আসা এসব ফল ও সবজিতে পোকার আক্রমণের অভিযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ)। তাই নিজেদের কৃষি উৎপাদনের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেই দেশটি থেকে এসব কৃষিপণ্য আমদানি সাময়িক নিষিদ্ধ করলো তারা।

এদিকে এই নিষেধাজ্ঞায় তীব্র আপত্তি তুলেছেন ব্রিটেনের ভারতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির পাইকারি ও খুচরা ফল-সবজি ব্যবসায়ীরা। তারা আশংকা করছেন, এতে করে তাদের ব্যবসা সিঁকিতে ওঠবে। খবর এনডিটিভির।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটি জানিয়েছে, মে মাসের ১ তারিখ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলো। তাদের বক্তব্য, ভারত থেকে আসা এক চালানে এসব ফল ও শাকসবজিতে পোকামাকড় ও কীট পতঙ্গের আক্রমণের কারণে গত মাসের শেষের দিকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউ। আর সোমবার কমিটির সিদ্ধান্তে তা কার্যকর করা হলো।

ভারত থেকে ফলের রাজা বলে খ্যাত আলফনসো আম, বেগুন, উচ্ছে-করলা আমদানি আপাতত বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তারা।

জানা যায়, ভারত থেকে ই ইউ-তে মোট যে পরিমাণ তাজা ফল, শাকসবজি আমদানি করা হয়ে থাকে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়া পণ্যগুলি তার ৫ শতাংশও নয়। তা সত্ত্বেও সেগুলিতে নতুন কীটনাশক থাকতে পারে এবং তা ই ইউ-এর কৃষি ও তার উৎপাদনের সামনে বিপদ হতে পারে, এ আশঙ্কা মাথায় রেখেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি হল।

ব্রিটেনের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর (ডেফরা) এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ভারতের ফল-সবজিতে থাকা কীটনাশক তাদের দেশের টমাটো, শশাসহ কৃষিপণ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তাই এই নিষেধাজ্ঞার দরকার ছিল।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আম আমদানি করে থাকে ব্রিটেন। আর্থিক অঙ্কের বিচারে এই ফলের বাজারের পরিমাণ বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ পাউন্ড। তাই নিষেধাজ্ঞার জেরে প্রচুর পাউন্ডের ব্যবসা মার খেতে বসেছে। তাছাড়া ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এম পি কিথ ভাজ নিজের সংসদীয় কেন্দ্র লিসেস্টারের ব্যবসায়ীদের অনুরোধ মেনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, এটা ইউরো-ননসেন্স। আমলাতন্ত্রের পাগলামো! শতকের পর শতক ভারত থেকে ব্রিটেনে আম আমদানি চলছে। যারা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে পড়বে, তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হল না একবার! এতে আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে চিঠি দিয়েও জানতে চেয়েছেন, ভারত সরকারের সঙ্গে কি নিষেধাজ্ঞা জারির আগে কোনও কথা বলা হয়েছিল?

এস রহমান/