পেঁয়াজের সিন্ডিকেটে ভোক্তার ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
64

গত চার মাসে (২ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর) মোট ২৪ বার পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি এখন দরিদ্র মানুষের কাছে রীতিমতো দুর্লভ বস্তু। এসময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পেঁয়াজের এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। তারা যে পরিমাণ অর্থ হাতিয়েছে, তা দিয়ে আরেকটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটি নামে একটি সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, গত ১ জুলাইয়ে পেঁয়াজের দাম ছিলো ৩০ টাকা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাত্র একদিনের (২ জুলাই) ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি বেড়ে যায় ১৫ টাকা। এর পর থেকে নানা অজুহাতে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। বিক্রেতাদের অজুহাতের মধ্যে ছিলো আমদানি খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম। গত চার মাসে মোট ২৪ বার পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করেছে। দেশের ১৮ কোটি ভোক্তা কতিপয় সিন্ডিকেটের কাছে বন্দি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট শনাক্ত করা হয়েছে। চার মাস সময়ের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী অন্তত পাঁচবার স্বীকার করেছেন যে সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী এটা স্বীকার করলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যা ভোক্তাদের হতাশ, ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, চার মাসে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসময়ের মধ্যে শুধু জুলাই মাসে এ সিন্ডিকেট ৩৯৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, আগস্টে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮২৫ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, অক্টোবরে ১৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। গত চার মাসে মূল্য বেড়েছে ৪০০ গুন। এসব অর্থ দিয়ে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এ সিন্ডিকেটের কারণে শুধু ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না সরকরাও ক্ষতিরগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারে নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের বিষয়ে যে সুনাম তৈরি হয়েছে এ সিন্ডিকেটের কারনে তা ম্লান হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ টন পেঁয়াজ আসেছ। যার ক্রয় মূল্য কেজিপ্রতি ২৬ থেকে ৪২ টাকা, গড়ে ৩৪ টাকা। সে হিসেবে যে পরিমাণ বিদেশি পেঁয়াজ আসছে তার বিক্রয় মূল্য ৫০ টাকার বেশি হওয়া অস্বাভাবিক। সম্প্রতি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্ষেত্র বিশেষ এটা ১৫০ টাকাও ছাড়িয়েছে কোথাও কোথাও। দেশের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ দাম। এ কারণে নিত্যপণ্যটি এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় বাইরে চলে গেছে আর দরিদ্র মানুষের কাছে এটি এখন দুর্লভ বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এসময় সিন্ডিকেট থেকে ভোক্তাকে রক্ষা ও সরকারের সুনাম রক্ষায় ৪টি উপস্থাপন দাবি করা হয়। তাদের দাবির মধ্যে ছিলো, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের মতো মূল্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা, দ্রুত সময়ের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করা, পেঁয়াজ ছাড়াও যেকোনো পণ্যে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি হলে সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য ঘোষণা করা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে অংশীজনদের নিয়ে ভেঅক্তা অধিদপ্তরে একটি সেল গঠন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটির মিডিয়া সেলের প্রধান জয়কৃষ্ণ জয়, ডাকা কালেকশন সেলের শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

অর্থসূচক/কেএসআর