দেশে ও বাইরে বাড়ছে নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি : বি.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ

0
84

risk-workনির্মাণ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা স্বাস্থঝুঁকিসহ নানারকম ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড উড ওয়াকার্স ফেডারেশন (বি.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ)। সংস্থাটির মতে   শ্রমিকের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশের অভাবেই দেশে ও দেশের বাইরে এ ঝুকিঁ বাড়ছে।

সোমবার ২৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক শ্রমিক স্মরণ দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে বি.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ এবং বাংলাদেশ সংযুক্ত বিল্ডিং এন্ড উড ওয়াকার্স ফেডারেশন (বি.এস.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

বি.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ-র সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুল বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক স্মরণ দিবস এবারের প্রতিপাদ্য ‘শক্তিশালী শ্রম আইন ও এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সূরক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের সকল শ্রমিককে নিরাপদ করণ।

দেশের মোট ১২ শতাংশেরও অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠী তাদের জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশের বিদ্যমান অস্বাস্থকর ও অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রে নিজেদের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছে যা দক্ষ ও কর্মঠ শ্রমিক সৃষ্টির প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্বস্বাস্থ্য প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচকে বাংলাদেশ খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই উল্লেখ করে নির্মাণ খাতে এ চিত্র আরও ভয়াবহ বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ব শ্রম সংস্থার হিসেব অনুযায়ী প্রতিবছর অনিরাপদ, অস্বাস্থ্যকর ও অনুপোযোগী কর্মপরিবেশের জন্য বিশ্বে প্রায় ২০ লক্ষ শ্রমিক প্রাণ হারায়। ওশি ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৩ সালে দেশে মোট ৮ হাজার ২৪ জন শ্রমিক কর্মস্থলে বিভিন্ন ধরণের পেশাগত দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে যার মধ্যে ২ হাজার ৭২৭ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩০৮ জন মারাত্নকভাবে আহত হন।

দেশের সকল নির্মাণাধীন কর্মস্থলে শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শ্রম পরিদর্শন জোরদার করণের মাধ্যমে নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটানো, সকল নির্মাণ শ্রমিককে বাধ্যতামূলক বিমার আওতাভুক্ত করা ও শ্রম আইন অনুযায়ী সকল প্রাপ্য সুবিধাদী নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

সম্মেলনে বি.এস.বি.ডব্লিউ.ডব্লিউ.এফ-র সম্পাদক শহিদুল হক জানান, ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপকে কেন্দ্র করে ওই দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কাজ চলছে। এতে নির্মাণ প্রকল্পে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক নির্মাণ শ্রমিক কর্মরত যাদের কর্মপরিবেম ও প্রদত্ত কল্যাণ সুবিধাধি যথাযথ মান সম্পন্ন নয়।

তিনি ২০১২ সালের এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেন, প্রায় ১০০০ এর মতো নির্মাণ শ্রমিক কাতারে কাজ করতে গিয়ে কর্মস্থলে মৃত্যুবরণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের পরিবার বর্গকে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সন্তোষ জনক নয়। আমরা চাই কাতার সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী সে দেশে কর্মরত সকল শ্রমিকের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করুক।

এমআর