দেশের সেরা সম্পদের অন্যতম একটির নাম সাকিব আল হাসান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
193

হঠাৎ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় দুঃসংবাদ। নিষিদ্ধ হতে পারেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির দুর্নীতি দমন নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করায় জানানোয় ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসতে পারে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ওপর।

আইসিসির দুর্নীতি দমন নীতিমালায় আছে-জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংশ্লিষ্ট যে কেউ জুয়াড়ির কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পেলে সেটা তৎক্ষণাৎ আইসিসি বা বোর্ডের দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানাতে হবে। সাকিব সেটা জানাননি।

তবে সাকিব তো আর ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নন। হয়তো মনের ভুলে বা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দেয়ায় আলাদা করে জানাননি। তবে এখন যে এত বড় বিপদ সামনে এসে পড়লো, কি করবেন সাকিব? কিইবা হবে গণমাধ্যমের ভূমিকা? সাকিবের পক্ষ হয়ে কাজ করবে নাকি সাকিবের ভুল নিয়ে সমালোচনা করবে?

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সাকিবকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে এমন কঠিন সময়ে গণমাধ্যম যেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো খবর না প্রকাশ করে সে আহ্বান জানিয়েছেন।

শাহরিয়ার আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমি প্রত্যাশা করি বাংলাদেশের সকল মিডিয়া এবং বিদেশি গণমাধ্যমে কাজ করেন এরকম সকল বাংলাদেশী সাকিবের পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন।

রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর হেডলাইন করা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দয়া করে সাকিবের (বা অন্য যে কোন আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছে এরকম কোন ক্রীড়াবিদের) সাথে এটা করবেন না।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা সম্পদের অন্যতম একটির নাম সাকিব আল হাসান, যে আমাদের অনেক কষ্টের মাঝেও আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আমরা বিশ্বের সেরা সেরা যেসব অলরাউন্ডারদের দেখে বেড়ে উঠেছিলাম তাদের সবার চেয়ে যে সে সেরা তা আমার আপনার বিবেচনায় নয়, বছরের পর বছরের পরিসংখ্যান এবং আইসিসিই তা বলেছে।

আর এটাকে অন্য কিছুর সাথে অযথা জড়াবেন না।

আইসিসির নিয়ম আছে, যা বি সি বি দেখবে কিন্তু নাগরিক হিসেবে সাকিবের পাশে সবাইকে দাঁড়াতেই হবে।’

বিসিবি’র একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বছর আগে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের আগে এক ক্রিকেট জুয়াড়ির কাছ থেকে অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সেটা প্রত্যাখ্যান করলেও নিয়মানুযায়ী আইসিসির দুর্নীতি দমন সংস্থা-আকসুকে জানাননি সাকিব। তবে ওই জুয়াড়ির কল ট্র্যাকিং করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কিছুদিন আগে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলে আকসুর প্রতিনিধি দল। সেখানে সাকিবও বিষয়টি স্বীকার করেন।

অর্থসূচক/এমএস