‘জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
57

জ্বালানিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে এটি বাস্তবায়নে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশের জন্য শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জ্বালানি বিষয়ে সরকার খুবই আন্তরিক। এ বিষয়ে সরকার বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন আমাদের সেই কাজে সহায়তা করবে। আমাদের কী পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগবে এবং সেগুলোর উৎপাদনের সুযোগ কোথায় সে বিষয়ে একটি ধারণাও এতে আছে।

তিনি বলেন, বিশ্বে পরিবর্তন আসছে। ভবিষ্যতেও জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের অনেক প্রাকৃতিক জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। তার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য যথেষ্ট জায়গার প্রয়োজন সেটা বাংলাদেশে আছে কিনা বাস্তবে দেখতে হবে। গবেষণা করতে হবে।

২০৫০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রধান নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে পরিগণিত হবে বলে দাবি করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। আর বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য উৎস হতে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২০০ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ, ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি এবং ওয়ার্ল্ড ফিউচার কাউন্সিল ২০১৮ সালে এ গবেষণাটি শুরু করে। গবেষণায় বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সম্ভব, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং সামাজিক দিক দিয়ে উপকারী। শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অভিগম্যতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশের কাঠামোগত উন্নয়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে। এর পাশাপাশি তাপ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতকেও বিদ্যুতায়নের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেওয়া হয় এতে। সম্ভব ২০৫০ সালের মধ্যে পরিবহন খাতের ৪০ ভাগকে বিদ্যুতায়ন করা।

বাংলাদেশের ভূ-ভাগে এবং সমুদ্রাঞ্চলে প্রায় ১৫০ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা রয়েছে বলে দাবি করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে ১৯১ গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ২০২৫ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫ গিগাওয়াট হারে এবং ২০৩৫ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ গিগাওয়াট হারে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করা হয় গবেষণায়।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. খলিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্রেডার চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন এনএসডিএ’র সেক্রেটারি মো. ফারুক হোসেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরিসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/এমআরএম