গ্রামীণফোন থেকে বিটিআরসির পাওনা আদায়ে কোর্টের নিষেধাজ্ঞা

0
98
gp_btrc

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন থেকে বিটিআরসির পাওনা আদায়ে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি আবদুল হাকিম ও ফাতেমা নজীবের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

gp_btrc

সূত্র মতে, গ্রামীণফোনের আপিল গ্রহণ করে এই মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। এবং আগামী ৫ নভেম্বর গ্রামীণফোনের আপিল শুনানির জন্য রেখেছে আদালত।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, শরীফ ভূঁইয়া ও তানিম হোসেইন শাওন। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

এরআগে  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটআরসি) গ্রামীণফোনে প্রশাসক বসানোর অনুমতি চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। গ্রামীণফোনের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি আজিয়াটাতেও প্রশাসক বসানোর প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা যায়। গত মঙ্গলবার বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ে আলোচিত চিঠিটি পাঠিয়েছে।

অনুমোদন পেলে এটি হবে ব্যাংকিং খাতের বাইরে বেসরকারি কোনো কোম্পানিতে সরকারি প্রশাসক বসানোর প্রথম ঘটনা।

উল্লেখ, রাজস্ব ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গে বিটিআরসির বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অপারেটর দুটির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ এনেছে বকেয়া রাজস্ব দাবি করেছে। এ নিয়ে একাধিক মামলামোকদ্দমাও হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিটিআরসি পরিচালিত দুটি বিশেষ নিরীক্ষার প্রেক্ষিতে সংস্থাটি কোম্পানি দুটির কাছে ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব দাবি করে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ টাকা আদায়ে ব্যান্ডউইডথ সীমিত করা এবং প্যাকেজ ও সরঞ্জামের ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল বিটিআরসি। তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই অপারেটরকে তাদের লাইসেন্স (টু-জি ও থ্রি-জি) কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়।

রাজস্ব সংক্রান্ত টানাপোড়েন ও লাইসেন্স বাতিলের হুমকীর প্রেক্ষিতে কোম্পানিটির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা গ্রামীণফোনের শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন। এতে ব্লুচিপ কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য পতন হতে থাকে, যার প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্য সূচকও কমতে থাকে।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে প্রায় সবাই বাজারের বর্তমান নাজুক অবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে গ্রামীণফোন ইস্যুটি তুলে ধরেন। তার প্রেক্ষিতে ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীসহ দুই অপারেটরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন তিনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, তারা একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আগাচ্ছেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিটিআরসির পাঠানো চিঠির মাধ্যমে পরিস্কার হয়ে গেছে, ওই গ্রহণযোগ্য সমাধানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এদিকে বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারা গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের চেষ্টা করলেও অপারেটর দুটি (গ্রামীণ ও রবি) সাড়া দিচ্ছে না।

তিনি অর্থমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে টোকেন অর্থ হিসেবে গ্রামীণফোন ২০০ কোটি টাকা ও রবি ৫০ কোটি টাকা দেবে সরকারকে। তারা (গ্রামীণ ও রবি) বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা দেয়নি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, প্রশাসক বসানো ছাড়া আমাদের অন্য কোনো উপায় নেই। তবে এর মধ্যে তারা কিছু টাকা দিয়ে দিলে আমরা আপাতত এই সিদ্ধান্ত (প্রশাসক বসানো) থেকে সরে আসবো।