থ্রিলারকে হার মানানো সাইবার অপরাধের গল্প!

প্রতিনিধি

0
71

র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে ঘিরেই তার অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি। তার শিকারে পরিণত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়াকর্মী। বাদ যাননি দেশজুড়ে পরিচিত সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। তার জালে জড়িয়েছেন সাধারণ চাকরিজীবী বা গৃহিণীও।

একের পর এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফেসবুক আইডি হ্যাক, ভিডিও ও ছবি জালিয়াতি, র‌্যাব কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায়, পর্নোগ্রাফি এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্রহননের মাধ্যমে অকল্পনীয় সব উপায়ে সাইবার অপরাধ সংঘটন করেন তিনি।

থ্রিলারকে হার মানানো অবিশ্বাস্য প্রতারণা কৌশল প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষের লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অবশেষে র‌্যাবের জালে আটকা পড়লেন পেশাদার সাইবার অপরাধী ও অনলাইন ভিত্তিক প্রতারক চক্রের হোতা মাহফুজুর রহমান নবিন (২৮)। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের মোহাম্মদ নগর (তিতারকোনা) গ্রামের মৃত ইজাজুর রহমানের ছেলে তিনি।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে বাহুবলের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, টার্গেট করার ক্ষেত্রে নারীদেরই সাধারণত প্রাধান্য দিতেন নবিন। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর প্রথমে তিনি আইডির মালিককে মানসিক চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইডিতে থাকা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে দিতে থাকেন। তারপর ধারাহিকভাবে হ্যাক করা আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন, সম্ভাব্য সব উপায়ে আইডির মালিকের সম্মান বিনষ্ট করা এবং সবশেষে এ আইডিগুলো ব্যবহার করে বিভিন্নমুখী, বিচিত্র প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।

র‌্যাবের দাবি অনুযায়ী, আটক নবিন অসংখ্য নারীকে টার্গেট করে অশ্লীল ছবি এবং ভিডিওতে তাদের মাথা জুড়ে দিয়ে ছবি-ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে চরিত্রহনন এবং তাদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িত। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী/প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন।

পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দিতেন দীর্ঘ দিনের সাজানো সংসার। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ফরমায়েশ নিয়েও তিনি এ কাজটি করতেন। তার ছবি বিকৃতির তালিকা হতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিদেশি সরকার প্রধানরাও বাদ পড়েননি। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে বিষোদগার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তার কাছে নৈমিত্তিক ব্যাপার বলে জানা যায়।

র‌্যাবের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার উদ্ভাবনী সব প্রতারণা কৌশল এবং ভয়ঙ্কর অপরাধ প্রবণতার কথা জেনে উপস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে পড়েন। এ পর্যন্ত র‌্যাবের কর্মকর্তা, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক এবং একই নাম ও ছবি ব্যবহার করে আইডি বানিয়ে তাদের ব্যক্তি ইমেজ ব্যবহারের মাধ্যমে অভিনব সব উপায়ে সাইবার অপরাধে জড়িত হন আটক নবিন।

র‌্যাব কর্মকর্তা এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, কয়েক মাসের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টায় এই ধূর্ত অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আটক নবিনকে হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অর্থসূচক/কেএসআর