পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

0
59

সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যেখানে গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ তা এক মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ ভাগ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে যে পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি সেই পেঁয়াজ মাসের শেষে এসে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকার উপরে। যে দাম এখনও বিদ্যমান।আজও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, শাকসবজি, মাছ, বয়লার মুরগি, অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ, বিবিধ দ্রব্যাদি ও জ্বালানি কাঠ ইত্যাদির দাম বাড়ায় এই মূল্যস্ফীতির পরিমাণ বেড়েছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ, বিবিধ দ্রব্যাদি ও জ্বালানি কাঠ ইত্যাদি উপ-খাতের দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩০ ও ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল যথাক্রমে শতকরা ৫ দশমিক ২৭ ও ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। গ্রামীণ পর্যায়ে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর শহরে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত এক বছরের (২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর) চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার নিরূপিত হয়েছে শতকরা ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে আগের এক বছরের (২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর) চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি: শিক্ষাব্যবস্থা ও জব স্কিলস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ফসলের উৎপাদন ক্ষতির অন্তর্ভুক্তির কারণে মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ভারত সরকার গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইজ (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয়। আগে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের আমদানি দাম ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার থাকলেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর তা বাড়িয়ে ৮৫০ মার্কিন ডলার পুনঃনির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পুরোপুরি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে করে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

অর্থসূচক/এমআরএম