রাজশাহীতে ১৭ ডিসেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান

rajshahi

রাজশাহী ম্যাপরাজশাহী মহানগরীতে জামায়াত-শিবিরের বেপরোয়া সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধে আগামি ১৭ ডিসেম্বর থেকে বিশেষ অভিযানে নামতে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজয় দিবস পালনের পর থেকে মহানগরীর জামায়ত-ছাত্রশিবির অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইনশৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করবে করবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমএপি) সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে বিশেষ অভিযানে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ও সহিংসতাপূর্ণ এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশ। মহানগরীর বিভিন্ন সময়ে নাশকাতার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সম্প্রতি মহানগরীতে বেপরোয়াভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে জামায়াত-শিবির। বিশেষ করে, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর থেকে তারা আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি শিবিরের কর্মীরা রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব জামান ভুলুর বাড়িতে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরীর বাড়িতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় শিবিরকর্মীরা। এছাড়াও মহানগরীর বিনোদপুর, কাজলা, বুধপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবির।

সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও নৈরাজ্য প্রতিরোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি থাকবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব রুখতে গত বুধবার থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিশেষ বার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় অব্যাহত নাশকতার কারণে এসব এলাকায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীও রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, নাশকতা প্রতিহত করতে এবং আইনশৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করতে ইতোমধ্যে দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশা নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরএমপির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যে কোনও নাশকতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় সতর্ক আছে।  ১৭ ডিসেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান চালানোর বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে।