রাজশাহীতে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ

0
163

buttaরাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অন্যান্য কৃষি ফসলের তুলনায় এ আবাদে শ্রমিক খরচ ও সেচ কম লাগা এবং সহজে বাড়িতে সংরক্ষণকরা যায়। এ কারণেই জেলার কৃষকেরা দিনে দিনে ভুট্টা আবাদে ঝুঁকছেন। এ আবাদ নিয়ে উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়তে কৃষকেরা সোনালী স্বপ্নের বীজ বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণঅধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় গতবারের চেয়েএবার প্রায় ১৯ হাজার বিঘা (২ হাজার ৫৫২ হেক্টর) বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। এবার জেলায় ভুট্টার লক্ষমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৮৬৩ বিঘা (৭ হাজার ৬৪৩ হেক্টর)। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭৬ হাজার বিঘা (১০ হাজার ২০৮ হেক্টর) জমিতে।

কয়েক বছর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য চাষিরা কম সেচের আবাদে ঝুঁকেছেন। ভুট্টার আবাদে ধান ও অন্য ফসলের তুলনায় কম সেচ লাগে এবং দামও ভাল পাওয়া যায়। এছাড়াও শ্রমিক খরচও বেশি লাগে না। আবার সবজি ফসল ঘরে রাখা না গেলেও ভুট্টা ধানের মতই সহজে সংরক্ষণ করা যায়।

রাজশাহী জেলায় ভুট্টার আবাদে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গতবার জেলায় আবাদ হয়েছিল ৭ হাজার ৬৪৩ হেক্টর। এবার আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ২০৮ হেক্টর। যার মধ্যে বোয়ালিয়ায় ৫৩ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর, তানোর উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর, গোদাগাড়ি উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, পুঠিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর, দুর্গাপুর উপজেলায় ১ হাজার ৫৯০ হেক্টর, বাগমারা উপজেলায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, মোহনপুর উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর, চারঘাট উপজেলায় ১৬০ হেক্টর এবং বাঘা উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল গ্রামের ইব্রাহীম খন্দকার ও মাখনপুর গ্রামের ভুট্টাচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, কৃষি আবাদে ভুট্টা চাষে সবচেয়ে খরচ কম। আবার ধানের চেয়ে বেশিফলন হয় এবং দামও ভাল পাওয়া যায়। চাহিদা থাকায় সময়ে অসময়ে ভুট্টা বিক্রি করা যায়।

কৃষকরা জানান, কয়েক বছর থেকে এ এলাকায় বোরো ধানের পরিবর্তে চাষিরা ভুট্টার আবাদে ঝুঁকেছেন। ধানচাষে প্রতি বিঘা জমিতে যে সেচ লাগে ভুট্টার আবাদে ১০ ভাগের একভাগও লাগে না। আবার সেচ খরচ ও সেচের অভাবের কারণেই চাষিরা অন্যান্য সেচ নির্ভর আবাদ বাদ দিয়ে এ আবাদ করছেন। ধান করার ইচ্ছা থাকলেও অনেক কৃষক সেচ নির্ভর ধানচাষ করছেন না। আর ডিপগুলোতে পানি উঠছে না। এলাকার বহু গভীর নলকুপ অকেজো হয়ে আছে। বাজারে ধান ও ভুট্টার প্রায় একই দাম। অথচ ধানের চেয়ে ভুট্টার ফলন বেশী পাচ্ছে। কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। যে ফসলে কৃষকেরা লাভ পায় সেই ফসলে তারা ঝুকে পড়ে। অনেক সময়ে এর জন্য লোকসানও হয়। সেক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ভুট্টাতে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েনি।

ভুট্টাচাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের খাদ্য ছাড়াও পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিস ফিড হিসেবে ব্যাপক চাহিদার কারণেদিনদিন বাড়ছে ভুট্টার চাহিদা। এই চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে এবং ভাল দাম পাওয়ায় রাজশাহীতে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। বিশেষ করে আলু উঠানোর পর খরিপ-১ মৌসুমে ওই জমিতে ভুট্টা আবাদ করলে খরচ কম হয়। কারণ আলুর জমিতে আবাদ করলে বাড়তি সার দিতে হয় না। এবং সেচও কম লাগে। কৃষকরা বলছেন এই মৌসুমে ভুট্টা আবাদ করলে প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বমোট ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। ভুট্টা পাওয়া যায় ১৫ থেকে ২০ মণ। প্রতিমণ ভুট্টার দাম ৭শ থেকে ৯শ টাকা। এই মৌসুমে ভুট্টা আবাদ করে ভাল লাভ পাওয়ার কারনে রাজশাহীর কৃষকরা ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে একদিকে বৃষ্টিপাত কমে গেছে অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নীচে নামছে। যে কারণে কৃষি আবাদে সেচ সংকট হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কম সেচের আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। তাই কম সেচের আবাদে কৃষকরা ঝুঁকছেন এবং এবার ব্যাপক জমিতে জেলায় ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

এমআই/সাকি