পুঁজিবাজারে কারসাজি ও দোষীদের শাস্তি-১

অর্থসূচক ডেস্ক

0
146
Kamrun-Nahar-Sharmin.jpg
অর্থসূচকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামরুন নাহার শরমিন

পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনা মোটেও বিরল নয়। যুগে যুগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে নানা ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। কিছু অতি-লোভী মানুষ রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়তে অন্যায়ভাবে এই বাজারকে ব্যবহার করেছে। তাদের কারসাজি, প্রতারণা, জালিয়াতিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাজারের লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানি পর্যন্ত দেওলিয়া হয়ে গেছে; চাকরি হারিয়েছেন কোম্পানিগুলোর অসংখ্য নির্দোষ কর্মকর্তা-কর্মচারি।

শক্ত আইন আর কঠোর নজরদারির মধ্যেও নতুন নতুন পথ (Innovative way) বের করেছে এসব কারসাজি ও কেলেঙ্কারির হোতারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার পায়নি তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখী হতে হয়েছে। জেল, জরিমানা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাদের। আর এখানেই আমাদের সঙ্গে ওই দেশগুলোর বড় পার্থক্য। এই দেশে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারের বড় বড় কেলেঙ্কারির হোতাদের কোনো শাস্তির মুখোমুখী হতে হয়নি। বহাল তবিয়তেই থেকেছেন এবং আছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে এদের কেউ কেউ বরং মন্ত্রী-এমপি-উপদেষ্টার পদে আসীন হয়ে বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুয়েকটি ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে শাস্তি দেওয়া হলেও তা অন্যায়ভাবে করা মুনাফার তুলনায় অতি নগন্য।

Kamrun-Nahar-Sharmin.jpg
অর্থসূচকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামরুন নাহার শরমিন

দোষীদের শাস্তি দিতে না পারার পেছনে হয়তো অনেক অনেক কারণ আছে। প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ,বড় বড় কেলেঙ্কারিগুলোর তদন্তে গঠিত কমিটির ব্যর্থতায় উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে না পারা,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূর্বলতা ইত্যাদি নানা বিষয় কাজ করেছে এর পেছনে। কিন্তু সবচেয়ে বড় দায় রাষ্ট্র ও সরকারের। কারণ পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা,যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ,সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে লুটেরা জোচ্চুরদের হাত থেকে রক্ষা করা,আইনের ফাঁক গলিয়ে কেউ বড় অপরাধ করে ফেললে তাদেরকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু অতীতে আমাদের কোনো কোনো মন্ত্রীকে প্রকাশ্যে এমন স্বীকারোক্তিও দিতে শোনা গেছে যে,তাদের (কারসাজিকারীর হোতাদের) হাত অনেক লম্বা……। এসব কারণে পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধ না হয়ে ব্যাপকমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। কথিত বিনিয়োগকারী, ব্রোকারহাউজের কর্মকর্তা, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ইস্যুয়ারসহ অনেকে সুযোগ পেলেই তাই মেতে উঠে সাধারণ বিনিয়োগকারীর পকেট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মিশনে।


ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হোন

আগে আগে জানুন শেয়ারবাজারের সব খবর

প্রিয় পাঠক,পুঁজিবাজার সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নানা খবর ও বিশ্লেষণ পেতে Sharebazaar- News & Analysis নামের ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ রইল।


পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানোর জন্য কারসাজির প্রতিটি ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো, বাজারের বিকাশ, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ-সব কিছুর সঙ্গেই আস্থার বিষয়টি জড়িত।

শুধু বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ নয়, পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আকৃষ্ট করতে হলেও কারসাজি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কারণ ভালো উদ্যোক্তারা কখনোই কারাসজিপূর্ণ বাজারে আসতে চান না। কারণ তাতে দুটি সমস্যা-প্রথমত: ওই কোম্পানির শেয়ার নিয়েও কারসাজি হতে পারে, যা কোম্পানির ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডিং নষ্ট করতে পারে; দ্বিতীয়তঃ কারসাজির বাজারে ভালো শেয়ার যৌক্তিক দাম পায় না, সেটি আবার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জন্য অমর্যাদাকর।

টাকার অংকে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলোর প্রায় সবই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের চিত্রটা বুঝার জন্যে তুলনামূলকভাবে ছোট বেশ কয়েকটি ঘটনাও এই লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুয়েকটি ঘটনা সরাসরি পুঁজিবাজারে ঘটেনি,কিন্তু সেই ঘটনার কৌশলকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে পুঁজিবাজারেও জালিয়াতির চেষ্টা চলেছে বলে তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

(বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারে কারসাজির কিছু বড় ঘটনা নিয়ে লিখিত একটি ফিচার আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশিত হবে অর্থসূচকে। ফিচারটি লিখেছেন অর্থসূচকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক কামরুন নাহার শরমিন। এটি অর্থসূচক প্রকাশিত ‘সুবর্ণ আগামী’ নামের ম্যাগাজিন থেকে সংকলিত।)

 

চলবে…….