ইস্পাত নির্মিত ভবনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের দাবি

0
181
steel building

steel buildingদুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হতে পারে ইস্পাত নির্মিত ভবন। নিরাপদ, অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এবং পুনরায় বিক্রির সুবিধা থাকায় এ ধরনের ভবন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের কারণে এর প্রসার ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন (এসবিএমএ)। আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে এ শিল্পকে বিশেষ সুবিধা দিতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো এক প্রস্তাবনায় এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবে বলা হয়, এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমান যে শুল্ক আইন রয়েছে তা পরিবর্তন করে সর্বনিম্ন শুল্ক হার নির্ধারণ করা দরকার। বর্তমানে কার্যকর বিধি অনুযায়ী, দশমিক ৬ মি.মি.’র নিচে আমদানি করা শিটের জন্য ২৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ও ৫ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন শুল্ক প্রদান করতে হয়, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, প্রকৃতপক্ষে এ শিল্পের জন্য আমদানি করা সিটের পুরুত্ব দশমিক ৪ মি.মি. থেকে শুরু হয়।

তাই সংগঠনটি শুল্ক আইন সংশোধন করে আমদানি করা শিটের সর্বনিম্ন পুরুত্ব দশমিক ৬ মি.মি. রহিত করে ১২ শতাংশ শুল্কায়নে সর্বনিম্ন দশমিক ৪ মি.মি. পুরুত্ব করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর শুল্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়।

এসবিএমএ’র প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভবন নির্মাণের ফলে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। আর ইস্পাত নির্মিত ভবনে দুর্ঘটনা কম ঘটে। আর  এ ভবন নির্মাণে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ খরচ কম হয়। তাছাড়া এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় সময় অনেক কম লাগে এবং ভূমিকম্প ও অন্যান্য কারণে হঠাৎ ধসে পড়ে না। ফলে বিশ্বের উন্নত দেশসমুহে ইস্পাত নির্মিত ভবন অত্যান্ত জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে নানা সীমাবদ্ধতায় তা হয়ে উঠেনি।  অতিরিক্ত শুল্কায়নের ফলে এর কাঁচামাল আমদানি কম খরচে এ বিল্ডিং নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এ পদ্ধতি হতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপদ ভবন তৈরির অন্যতম মাধ্যম।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় স্টিল বিল্ডিং নির্মাণ। এ কারণে শিল্পটিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখা প্রয়োজন। সরকার শুল্ক কমিয়ে দিলে আমরা আরো কম খরচে উদ্যোক্তাদের এ বিল্ডিং নির্মাণ করে দিতে পারব। এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনগুলোও বিদেশী ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইস্পাত নির্মিত বিল্ডিং তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল।

এসবিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং মূলত শিল্প-কারখানার অবকাঠামো ও ওয়্যারহাউস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অধিক হারে শুল্কায়নের কারণে শিল্প-কারখানার উদ্যোক্তারা নিরুত্সাহিত হবেন এবং শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ৭০টি শিল্পে কর্মরত প্রায় ২ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। আমরা চাই না এমনটি হোক। তাই সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি, এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার স্টিল বিল্ডিংয়ের চাহিদা রয়েছে। এর ৯০ শতাংশই দেশে তৈরি হলেও বাকিটা আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া ৯০ শতাংশ দেশে তৈরি ভবনের কাঁচামালও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।