বাজার মাতাচ্ছে যেসব গাড়ি!

0
75

প্রতিটি মানুষেরই একটি স্বপ্ন থাকে। তেমনি মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় সবাই চায় তার একটি গাড়ি থাকবে। আগে অনেকেই এমন ধারণা করতেন গাড়ি আর হাতি পোষা সমান কথা। তবে যুগের পরিবর্তনে মানুষের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। একটা গাড়ি থাকাকে এখন আর মানুষ বিলাসিতা মনে করে না। নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনে সবাই চাই তার একটা গাড়ি থাকুক। অনেকে আবার এটাকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও বর্তমানে ব্যবহার করছেন।

আমাদের দেশে অন্যান্য গাড়ির তুলনায় টয়োটা গাড়ির চাহিদা সবসময়ই একটু বেশি। বর্তমানে দেশের ৮৫ শতাংশ গাড়িই টয়োটা। ২০১৭ পর্যন্ত টয়োটা ভালো মানের সেডান হিসেবে প্রিমিও এবং এলিয়নের ২০১২-২০১৬ মডেলের গাড়িগুলো জনপ্রিয় ছিল।

কিন্তু ২০১৮ সালে টয়োটার বিলাসবহুল হাইব্রিড গাড়ি কেমরি সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবহারকারীদের মন জুগিয়েছে। এ বছরের জনপ্রিয় গাড়ির তালিকায় টয়োটা প্রিয়াস, অ্যাকুয়া, এক্সিউ ও ফিল্ডার হাইব্রিড রয়েছে। বরাবরের মতো বেশি মালামাল বহনের জন্য টয়োটা প্রোবক্স সাশ্রয়ী মূল্যে একটি সেডান কার।

এছাড়া, হাফ ভ্যান বা মাইক্রো সেগমেন্টে টয়োটা এক্স নোয়াহ এসআই, স্কয়ার, ভক্সি, ভেলফায়ার ও অ্যালফার্ডের বিক্রি বেড়েছে। নতুন নকশার টয়োটা সিয়েন্টাও ক্রেতাদের চোখ আকর্ষণ করেছে। এই মডেলের গাড়িগুলোর হাইব্রিড এবং নন–হাইব্রিড দুটি সংস্করণই রয়েছে। আকারে ছোট এবং কম সিসির গাড়ির মধ্যে টয়োটা ভিটজ, আইএসটি ও পেসোর চাহিদা রয়েছে।

এ বছর জনপ্রিয় হওয়া অন্য আরেকটি গাড়ি হলো নিশান এক্সট্রেইল। এসইউভি ঘরানার গাড়িটি দেখতে যত আকর্ষণীয়, চড়তেও ততটা আরামদায়ক। বিলাসবহুল সারিতে টয়োটা হ্যারিয়ার, লেক্সাস, মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্টসসহ অন্যান্য গাড়িও বাজার দখল করেছে।

একটা সময় কয়েকটি নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ি ছাড়া দেশের বাজারে অন্য গাড়ি তেমন দেখা যেত না। কিন্তু ইন্টারনেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন নিত্যনতুন মডেলের গাড়িগুলো কেনার ব্যাপারেও মনোযোগী হচ্ছে। টয়োটা ছাড়াও হোন্ডা, মিতসুবিশি, নিশান ও সুজুকি গাড়ির আকর্ষণীয় মডেলগুলো রাজধানীর রাস্তায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

২০১৮ সালে বিলাসবহুল ঘরানায় হাইব্রিড প্লাগ–ইন আনকোরা (ব্র্যান্ড নিউ) গাড়ি নিয়ে এসেছে বিএমডব্লিউ। মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি, কিয়া, মিতসুবিশি, হোন্ডা, টয়োটা, নিশান, হুন্দাই, ফোর্ড, পুঁজো, হাভাল, মাহিন্দ্রা, টাটাসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ‘ব্র্যান্ড নিউ’ অবস্থায় বাংলাদেশে আসে।

এদিকে কার ফেয়ারের ম্যানেজার গোপাল বলেন, বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা খুব বেশি ভালো না হলেও একেবারে খারাপ না। বেচাকেনা মোটামুটি আছে। বর্তমানে নতুন মডেলের গাড়ি গুলোর প্রতি চাহিদা বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানের মত রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সামনে বেচাকেনা ভালো হবে বলেও তিনি জানান।

দামের বিষয়ে তিনি বলেন নতুন মডেলের গাড়িগুলো দাম কিছুটা বেশি হলেও ২০১৪ বা ২০১৫ মডেলের গাড়িগুলো একটু কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। টয়োটা প্রিমিও পুরাতন মডেলের গাড়ি গুলো ২৩ লাখ থেকে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। আর নতুন মডেল গুলো ৩০ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুব বেশি পার্থক্য না হলেও কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে টয়েটো এলিয়ন। এদিকে নিশানের পুরাতন মডেলের গাড়িগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০ লাখ টাকার উপরে। আর নতুন মডেল ২০১৮ বা ২০১৯ কিনতে গেলে ৫০ লাখ টাকার উপরে দাম গুনতে হচ্ছে।

কার ফেয়ারের ম্যানেজার বলেন, লাখ টাকার যেমন আছে, তেমন বাংলাদেশে কোটি টাকা দামের গাড়িও রয়েছে। যেমন বলা যায় যে ১৯৯৫ সালের টয়োটা ক্যাম্রি গাড়ি বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ লাখ টাকায় পাওয়া যায় অথচ একই জাতের ২০১৪ সালের টয়োটা কোম্পানির প্রাডো টি এক্স ল্যান্ড ক্রুইসার টয়োটা মডেলের গাড়ির দাম আমাদের দেশে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার মত।

এদিকে, নতুন রিকন্ডিশন গাড়ি গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন শোরুমে ব্যবহৃত পুরাতন গাড়ি গুলো বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইবিএম কার সেন্টারের সেলস ম্যানেজার আখতারুজ্জামান বলেন, যারা নতুন গাড়ি গুলো কিনতে পারে না, বা অনেকেই দেখা যাচ্ছে একটু কম দামে পুরাতন ব্যবহৃত গাড়ি গুলোই বেছে নিচ্ছেন। অনেক মধ্যবিত্তই রয়েছেন যারা সখের বসে একটা গাড়ি কেনেন। তার কাছে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মডেলের গাড়ি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও ব্যবহৃত গাড়ি কিনলে অনেক সময় মূল দামের চেয়ে সস্তায় পাওয়া যায়। তবে যদিও দামটি ঐ একইরকম অন্যান্য নতুন গাড়ির চেয়ে কমে পাওয়া যায়, অনেক সময় দেখা যায় যে তার চেয়ে কম দামে অন্য কোন কোম্পানির নতুন গাড়িই পাওয়া যায়। তাই গাড়ির দামের ক্ষেত্রে এক্ষেত্রে একেবারে মেপে নিয়ে কিছু বলা যায়না। তবে সাধারণত নয়-দশ লাখ টাকার মাঝে একটি মোটামুটি ভাল মানের গাড়ি কিনতে পারা যায়।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস