চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

0
95

Chittagong_port1চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বন্দরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভূরিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এ বছরও বন্দরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ব্যবহারকারীসহ প্রায় ১০ হাজার লোকের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বরণে ও সম্মানে তাদের পরিবারদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।  আরো আয়োজন করা হয়েছে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ।

অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস সুপ্রাচীন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে আরব ও ইয়েমেন বণিকরা এ বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা শুরু করে ।  ১৮৮৭ সালে ২৫ এপ্রিল পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট প্রণয়ন মধ্য দিয়ে আধুনিক বন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর। সে বছর থেকে ২৫ এপ্রিল বন্দর দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বর্তমানে দেশের আমদানি রপ্তানির পণ্যের উঠানামার প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিধি বিস্তার 

১৮৯২ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি গঠিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে চা ও পাট রপ্তানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ১৯০৪ সালে এ বন্দরের মাধ্যমে ৩৯ দশমিক ২৩ মিলিয়ন রুপির বাণিজ্য হয়, যা ১৯২৮ সালে ১৮৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়। ১৯২৮ সালের পয়লা এপ্রিল ব্রিটিশ সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে এবং এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রাদেশিক সরকারের স্থলে গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৮৯৯ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বপ্রথম চারটি জেটি নির্মিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর চট্টগ্রাম বন্দর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র বন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং পঞ্চাশের দশকে সাতটি নতুন জেটি, কিছুসংখ্যক পল্টুন বার্থ ও মুরিং নির্মাণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র বা স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে অবস্থানরত পাকিস্তানি অস্ত্রবাহী জাহাজ ‘এমভি সোয়াত’ থেকে অস্ত্র খালাস কার্যক্রম প্রতিহত করার লক্ষ্যে ডক বন্দর ও পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলের বিশেষত স্টিল মিলের শ্রমিকরা বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। টহলরত হানাদার বাহিনী প্রতিরোধি জনতার ওপর গুলি চালালে সেখানে বন্দরের ডক শ্রমিকসহ ২৩ জন জনতা শহীদ হন। চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-কমান্ডোদের সাড়া জাগানো অপারেশন ‘জ্যাকপট’এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী শহীদ হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে আবির্ভূত হয়।

চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নামকরণ

মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের ব্যাপকতা বাড়ায় বন্দর ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন প্রদান ও বন্দরের কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট বিলুপ্ত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৭৬ জারি করা হয়।

কনটেইনার পদ্ধতি প্রবর্তন

১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে কনটেইনারাইজেশনের যুগে প্রবেশ করে এ বন্দর। তখন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে কনটেইনার পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এক নতুন দিকের সূচনা ঘটে।  বর্তমানে বন্দর দৈনিক তিন হাজার টিইউএস কনটেইনার (প্রতিটি ২০ বর্গফুট হিসাবে)  হ্যান্ডেলিং করতে সক্ষম। সম্প্রতি বন্দরকে নিয়ে সরকার যে ৩০ বছর মেয়াদী যে মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান ) হাতে নিয়েছে  তা বাস্তবায়ন হলে পাঁচ বছর পর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টিইউএস কনটেইনার এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার টিইউএস কনটেইনার  হ্যান্ডেলিং করতে সক্ষমতা অর্জন করবে বন্দর।