রাজনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক শিল্পে ক্ষতি বাড়ছে

পোশাক কারখানা
ছবি: ফাইল ছবি

পোশাক কারখানাচলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতার তীব্র প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে। প্রতিদিনই বাড়ছে এ খাতের ক্ষয়-ক্ষতি। বাতিল হচ্ছে অর্ডার। গত সপ্তাহের প্রথম সপ্তাহ পযন্ত ২০ টি কারখানার অর্ডার বাতিল অথবা মূল্য ছাড় দেওয়ার তথ্য জমা পড়েছিল বিজিএমইএতে।সপ্তাহের শেষভাগে এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ টি। কিন্তু বেশিরভাগ কারখানাই বিজিএমইএ’র কাছে এখনও অর্ডার বাতিলের তথ্য জমা দেয়নি বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে,চলতি ডিসেম্বর মাসের ১২ দিনে আলোচিত কারখানাগুলোর এক কোটি ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্ডার বাতিল, মূল্য ছাড়, বিমানে পণ্য পরিবহণের জন্য বাড়তি মাশুল,জাহাজীকরণ বিলম্বজনিত ক্ষতি।

এখন পর্যন্ত যে ২৪ কারখানা ক্ষতির রিপোর্ট করেছে বিজিএমইতে সেগুলো হচ্ছে-গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ, রাতুল অ্যাপারেলস, ডিভাইন ফ্যাশন, নিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সাউথইস্ট স্যুয়েটার, শাহেদ ফ্যাশন, শাহেদ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ, পি অ্যান্ড ও অ্যাটায়ারস, মার্ক মুড, লিরিক অ্যাপারেলস, আমিন ফ্যাব্রিক, কেজি গার্মেন্টস, ম্যানভিল স্টাইল, নোমান ফ্যাশন, সাদ-সান অ্যাপারেলস, লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজ,  বাংলা পোশাক, এসকেএল অ্যাপারেলস, সেভেন স্টার স্যুয়েটার, ডটকম স্যুয়েটার, ফ্যাশন ২০০০ লিমিটেড, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন, স্পেস স্যুয়েটার ও ফ্যাম স্যুয়েটার।

এ সম্পর্কে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতা শহীদুল্লাহ আজিম চলমান রাজনৈতিক সংকট, পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ পণ্য পরিবহন সংকটকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, সামগ্রিক অস্থিরতায় কারখানা মালিকেরা কাজের অর্ডার পাচ্ছেন না। এ সময়ের মধ্যে ২৪ টি কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, যার পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৭ মার্কিন ডলার।

আর সময় মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় জরিমানা গুনতে হচ্ছে ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৮৮ মার্কিন ডলার। আবার আকাশ পথে পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯৮ মার্কিন ডলার। জাহাজী করণে বিলম্ব মাশুল ৭২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার, ভাংচুর-নৈরাজ্যে ১৯ লাখ ২১ হাজার ২১৯ মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন আজীম।

তিনি বলেন, দেশে চলমান অস্থিতিশীল রাজনীতির কারণে কারখানা মালিকরা তাদের পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে ব্যবসার পরিধি কমিয়ে আনছে। ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশের প্রতি নজর দিচ্ছেন তারা। ফলে ক্রমেই রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহে ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ৫ হাজারের বেশি ট্রাক/কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন করতে পারে। অবরোধের মধ্যে সেখানে ২ হাজার ট্রাক/কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে কারখানাগুলোতে পণ্য আটকে থাকছে।

আবার পণ্যবাহী ট্রাক/কাভার্ডভ্যানের চালকেরা অবরোধের কারণে নিরাপত্তার ভয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছেন না।

তবে ওই সময়ে পুলিশি নিরাপত্তায় কিছু পণ্য পরিবহন করলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার তাতে হচ্ছে কয়েকগুন বাড়তি খরচ।

১৬ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ৩৫ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে মালিকদের। এতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুন বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ মালিকদের। আবার পোশাক-কারখানাগুলতে নাশকতার কারণে উদ্বিগ্ন মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিকেএমইএভুক্ত সদস্যদের কারখানায় হরতাল-অবরোধে অন্তত ৩০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। উৎপাদন আদেশ না পাওয়ায় মালিকেরা শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না। কাজ না থাকায় গতি হারিয়ে ফেলতে বসেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন বাংলাদেশ থেকে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ক্রেতারা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঝুঁকছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পোশাক মালিকেরা বলছেন, বছরের এই সময়টাতে সব চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়ে থাকে। বড় দিনকে সামনে রেখে রপ্তানির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে এবার শিল্পে বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভরা মৌসুমে কাজ হারাচ্ছেন কারখানা মালিকেরা।

মালিকেরা জানান, পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহন হলও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে মালবাহী ট্রাক আগুনে পুড়ে যাওয়ায় চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে করে আরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।