বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতাকা উড়িয়ে গিনেজ বুকে বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতাকা উড়িয়ে গিনেজ বুকে বাংলাদেশ

National Falg১ লাখ ১১ হাজার বর্গফুটের মানব পতাকা উড়িয়ে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা। একই সাথে এই পতাকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের মানুষের আত্মশক্তি, ঐক্য এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালের পরে আবারও তুলে ধরলো বাংলাদেশ।

সোমবার মহান বিজয় দিবসের দিন দুপুর ১.৩৪ মিনিটে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ মানব পতাকা ২৭ হাজার ১১৭ জন মানুষ মাথায় নিয়ে ৬.১৬ মিনিট দাড়িয়ে গিনেস বুকে বাংলাদেশের নাম লিখালো।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ হাজার সদস্য ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ হাজার তরুণ-তরুণীসহ মোট ২৭ হাজার সেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহনে তৈরি হলো এ মানব পতাকা। সেনাবাহীনির ৮ হাজার সদস্য পতাকার লাল-সবুজের লাল অংশটুকু উত্তোলন করেন।আর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ হজার ১১৭ জন তরুণ-তরুণী সবুজ অংশ উত্তোলন করেন।বাংলাদেশের এ মানব পতাকা দেখার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কমিটির অনুমোদিত একজন পর্যবেক্ষক উপস্থিত রয়েছেন এখানে। অনুষ্ঠান শেষে  প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও ছবি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে।এর আগে রবি এ্যাক্সিয়াটা লিমিটেডের সৌজন্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পিদের এক মাসের পরিশ্রমে ১৪ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয় এ মানব পতাকার প্রস্তুতি।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর আগে ২০১২ সালে ২৪ হাজার ২০০ সেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহনে সর্ববৃহৎ মানব পতাকা তৈরি করেছিল পা্কিস্তান। যদিও চলতি বছরের জুলাই মাসে রাশিয়া ২৬ হাজার  সেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহনে তাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে যা গিনেস বুকে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আগেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের রেকর্ডকে কেড়ে নিল। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২১ হাজার সেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহনে ক্রোয়েশিয়ার। তাই এ যাবৎকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পতাকাটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা হিসেবে গিনেস বুকে নাম লিখালো।

গিনেজ বুকের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র একটি দেশের পতাকা নিদির্ষ্ট রংয়ের পোশাক বা প্লাকার্ড নিয়ে ৫মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এর মাঝখানে কোনো বিন্দু বা দাগ থাকতে পারবে না।মানুষ দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাদা ছক দিয়ে সীমানা দেওয়া যাবে।পতাকা হাতে যদি কেউ নড়াচড়া করে বা পড়ে যায় তাহলে রেকর্ড হবে না।আকাশ থেকে ছবি তুলে তা কর্তপক্ষকে দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫১ সালে দুই বন্ধুর তর্ক থেকে আর্থার গিনেস বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্ববৃহৎ সকল কিছুকে নির্ণয়ের জন্য একটি মাপকাটি নির্ধারনের চিন্তা করেন। তিনি এ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করে ১৯৫৫ সালে একটি বই রচনা করেন। এরপর ১৯৫৯ সালে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে।যারা প্রকাশনায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাক্তি,বস্তু এবং অর্জনের স্বীকৃতি দেয়।

 

নয়ন

এই বিভাগের আরো সংবাদ