জিপিএইচ ইস্পাতের উদ্যোগে হচ্ছে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
125
En-Genius

দেশে পুরকৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের কাঠামো-নকশার (Structural Design) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইন-জিনিয়াস (En-Genius) নামে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ৫০০ ডব্লিউ টিএমটি বারসহ কনস্ট্রাকশন রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড এবং দৈনিক প্রথম আলো যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। দেশে এই ধরনের প্রতিযোগিতা এটিই প্রথম।

En-Genius

 

আজ বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।

প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ এবং সদ্য স্নাতক শিক্ষার্থীরা দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রত্যেকটি দলে তিন জন করে সদস্য রাখা যাবে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৩০ টি দলকে নিয়ে সামনে দিকে আগাবে বিচারক প্যানেল।

ইন-জিনিয়াস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য www.prothomalo.com/engenius এই ঠিকানায় নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইনে নিবন্ধন এবং প্রথম পর্বের ডিজাইন জমা দেওয়া যাবে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, নিরাপদ ও টেকসই নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ মানের কাঠামো-নকশা (Structural Design) প্রয়োজন। একদিকে এধরনের নকশা চর্চা ও পুরকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহ যোগাতে হবে, অন্যদিকে ভবন বা স্থাপনা নির্মাণে যাতে পেশাদার পুরকৌশলীদের সহায়তা নেওয়া হয় সে বিষয়ে সারাদেশে সচেতনাতা বাড়াতে হবে।

প্রতিযোগিতার বিচারক দলের প্রধান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক খান মোহাম্মদ আমানত জানান, এই প্রতিযোগিতা (En-Genius) দেশে আন্তর্জাতিক মানের কাঠামো-নকশা চর্চার বিকাশে ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে কাজে আসবে এ প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য সাইফুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশে নিরাপদ নির্মাণের প্রয়োজনে পেশাদার পুরকৌশলীদের পরামর্শ সেবা নেওয়া ও মানসম্পন্ন কাঠামো-নকশা ব্যবহারে দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরি করবে।

জিপিএইচ ইস্পাত এর চেয়ারম্যান আলমগীর কবির বলেন, নিরাপদ নির্মাণের স্বার্থে কাঠামো-নকশা চর্চায় পুরকৌশলীদের উৎসাহ যুগিয়ে যেতে হবে। তরুণ পুরকৌশলীদেরকে আন্তর্জাতিক মানের নকশার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাহলে অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও উদ্ভাবনী প্রকৌশলী তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নির্মাণ হবে টেকসই ও উন্নত ভবন। ত্বরান্বিত হবে উন্নয়ন।

জানা গেছে, প্রতিযোগিতাটি কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্যায়ে অনলাইনে নিবন্ধনকারী দলগুলোর মধ্য থেকে ৩০টি দল বাছাই করা হবে। পরে এই দলগুলোর জন্য বুয়েটে কাঠামো-নকশা বিষয়ে ৩ দিনের আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এরপর তাদেরকে একটি এলাকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ভুমির মাপ, সয়েল টেস্ট ইত্যাদি সরবরাহ করে তার ভিত্তিতে নকশা প্রণয়ন করতে বলা হবে। এ পর্যায়ে প্রতিযোগিদের বাছাই করে তালিকাটি ছোট করে আনা হবে। তাদেরকে এক বা একাধিক কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কয়েকদিনের জন্য হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেরা তিনটি দলের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী দলের সদস্যদের ইন-জিনিয়াস হিসেবে ঘোষণা করা হবে। প্রথম স্থান অর্জনকারী দলটি একটি পরিকল্পিত শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়াও অন্য বিজয়ীদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস