বেতন-ভাতার দাবিতে পিপলস’র কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

অর্থসূচক ডেস্ক

0
132

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পিপলস লীজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই প্রেক্ষিতে বেতন-ভাতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রথমে মানব বন্ধন ও পরে  সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন, মো. হারুন-উর-রশীদ, লিয়াকত আলী, কিসমত আরা, মামুন হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ও হাইকোর্টের নিযুক্ত সাময়িক অবসায়কের (পিএলএফএসএল) জরুরী হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৯ জুলাই দৈনিক সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে “পিপলস্ লীজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড’’ অবসায়ন হতে যাচ্ছে। ১৪ জুলাই হাইকোর্ট ডিভিশন অবসায়নের অনুমতি প্রদান করেন। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। আকস্মিক লিক্যুইডেশন হওয়ায় বিগত মাসগুলোর বেতন-ভাতা না পেয়ে বাড়ীভাড়া পরিশোধ করতে পারছে না। এতে করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় থাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছে। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে ৫৮ জন, গুলশান শাখায় ১৩ জন, চট্টগ্রাম শাখা অফিসে ৭ জন এবং বাকি ১০০ জন লাইবেলিটি মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এ কর্মরত। তাদের আয়ের উপর নির্ভর করে প্রায় ১৭৮ টি পরিবারের কমপক্ষে ১১০০ জন ব্যক্তির ভরনপোষণ ও পড়াশোনার খরচ চলে। এ অবস্থায়, যদি চাকরী না থাকে, কোনো বেতন-বোনাস না পাওয়া যায় এবং  সার্ভিস বেনিফিট না পাওয়া যায় তাহলে পরিবার-পরিজনসহ মৃত্যুর পথ বেছে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে জানানো হয়।

তারা আরও বলেন, বেতন ভাতা ও ঈদ বোনাস পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের নিযুক্ত সাময়িক অবসায়ক এবং ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেননি।

৭ দফা দাবি নিচে তুলে ধরা হলো:

ঈদুল আযহার বোনাস, চাকুরীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, চাকুরীবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরণ, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ছাঁটাই প্রক্রিয়া বন্ধ এবং সর্বোপরি গোল্ডেন হ্যান্ডশেকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা।

এর আগে সকালে একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন পিপলস লীজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অর্থসূচক/জেডএ