আজও থামেনি আর্তনাদ: অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন আর চলছে না

0
152
relatives

relativesরানা প্লাজা ট্রাজেডির একবছর পূর্তি হলেও এখনো অনেকেই পায়নি ক্ষতিপূরণ। বারবার বিজিএমইএ’র দরজায় কড়া নেড়েও সাড়া পায়নি তারা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে একত্র হয়েছেন আহত-নিহতদের স্বজন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিরা। সেখানে স্বজনদের আর্তনাদে আবারও ভারি হয়ে উঠলো সাভার।

কথা হয় রানা প্লাজা ধসে নিখোঁজ ফারজানার মা পাবনার নুরুন্নাহারের সঙ্গে। তিনি এখন কাজ করেন মানুষের বাড়িতে। তার একমাত্র মেয়ে ফারজানা কাজ করতো ফ্যান্টমে। গত বছর দুর্ঘটনার পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এর কোনো ফলাফল পায়নি নুরুন্নাহার। এমনকি বিজিএমইএর অফিসেও ফারজানার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই বলে জানালেন নিখোঁজ ফারজানার মা।
নিখোঁজ নির্মলা রাণী, শাহজাহান আলী, সুফিয়া বেগম ও শফিকুল ইসলামের স্বজনরা এখন পর্যন্ত পায়নি কোনোই ক্ষতিপূরণ। স্বজনরা জানালেন, উপার্জন না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে তাদের জীবন যেন আর চলছে না।

ফ্যানটম পোশাক কারখানার আহত শ্রমিক আফরোজা অর্থসূচককে জানান, একবছরেও ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না তিনি। দুর্ঘটার পর প্রথম তিন মাস সরকারি টাকায় চিকিৎসা মিললেও এখন পাচ্ছেন পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিগ্রহ।

এ অবস্থায় তাকে থাকতে হবে আরও দেড় বছর। এর পরে আবারও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পায়ের ভেতরে থাকা রড বের করা হবে তার। আর এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণবাবদ পেয়েছেন মাত্র ১০ হাজার টাকা। তার অভিযোগ সুচিকিৎসার পরিবর্তে ডাক্তারদের দুর্ব্যবহারই পেয়েছেন তারা।

আর বিদেশি বায়াররা বিকাশের মাধ্যমে কিস্তিনির্ভর এক ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন হতাহতদের পরিবারকে। তিন কিস্তিতে অনেকে ৪৫ হাজার টাকা পেলেও তা অনেকের ভাগ্যে জোটেনি। আর ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজার ৭ম ও ৮ম ফ্লোরের পোশাক কর্মীদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও খুব কম পরিবারই পেয়েছে তা। ওই দুই ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মীরাই পায়নি ক্ষতিপূরণবাবদ বায়ারদের এই সহযোগিতা।

উপস্থিত পোশাক কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিকাশের মাধ্যমে বিদেশে বায়াররা এই সাহায্য দিয়েছেন কয়েকটি কিস্তিতে। প্রথমে তিন কিস্তিতে মাথাপিছু মোট ৪৫ হাজার টাকা ও গতকাল ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেছে তারা। তবে কিসের ভিত্তিতে বা কাদেরকে এই সহায়তা তারা দিচ্ছে তা জানেনা ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই।

হারিয়ে যাওয়া স্বজনরা ফিরে আসবে না আর কখনোই। এই অকাল বিয়োগের ফলে তাদের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তার অপূরণীয়। তবুও সব কিছু মেনে নিয়েই সরকার ও কারখানা মালিকদের দিকে তাকিয়ে আছে স্বজনরা। অথচ যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কিংবা অবহেলার কারণে আশায় গুড়েবালি হয়েছে স্বজনদের।

আর বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোও আছেন চরম দুর্দশার মধ্যে। নতুন করে কাজে ফিরে যাওয়া তো দূরের কথা, সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপনই করতে পারছেন না তারা। তাদের একটাই চাওয়া। সেটা হচ্ছে সরকারের সহযোগিতা।

এআর