দুই কাস্টমস কর্মকর্তার কোটি টাকা পাচার, চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

0
104
dudok

দুদকভুয়া ব্যাংক হিসেব খুলে অবৈধ আয়ের কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে মংলা কাস্টমস হাউজের দুই কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুস সোবহান ও সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। আর এর সহায়তার জন্য সিটি ব্যাংকের এমডিসহ চারজনের বিরুদ্ধে শিগগির চার্জশিট দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালে এ অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি কমিশন চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।

যাদেরকে আসামি করে এ চার্জশিট দাখিল করা হবে তারা হলেন- খুলনার মংলা কাস্টমস হাউজের মূল্য নির্ণায়ক (এপ্রেইজার) সৈয়দ আব্দুস সোবহান, তার ভাই এবং কাস্টমস কর্মকর্তা সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সিটি ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. বজলুল করিম এবং ওই শাখার কাস্টমস সার্ভিস ম্যানেজার কাজী আজিজুর রহমান।

দুদক সূত্র জানায়, সৈয়দ আব্দুস সোবহান খুলনার মংলা কাস্টমস হাউজের মূল্য নির্ণায়ক (এপ্রেইজার) থাকাকালীন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। আর আয়কৃত টাকা পাচারের জন্য সিটি ব্যাংক খুলনা শাখায় সুগন্ধা শিল্পী রায় নামে একটি ভুয়া হিসেব খোলেন।  এ হিসেব নম্বরে তিনি বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে আয়কৃত প্রায় তিন কোটি টাকা জমা করেন। পরবর্তীতে তিনি সিটি ব্যাংকের ঢাকা ভিআইপি রোড শাখায় নিজের নামে ও তার ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের নামে দুটি হিসেব খোলেন। এরপর ঐ ভুয়া হিসেব নম্বর থেকে নিজের হিসেব নম্বরে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ও ভাইয়ের হিসেব নম্বরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তুলে  নেন।

সুত্র আরও জানায়, একটি হিসেব নম্বর থেকে কোনো প্রকার আয়ের উৎস না থাকার পরও একসাথে এত টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ব্যাংক কতৃপক্ষ। আর অভিযোগটি অনুসন্ধান শেষে ভুয়া হিসেব নম্বর খোলা এবং এই অবৈধ টাকা পাচারের বিষয়টি  প্রমাণিত হয়। সেই সাথে নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তা কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করে ভূয়া হিসেব নাম্বার খোলতে এবং এই অবৈধ টাকা পাচারের সহযোগিতা করেন বলেও প্রমানিত হয়। তাই ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন থানায় ওই চারজনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। যার বাদী ছিলেন দুদক উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়া। এরপর কমিশনের আরেক উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গির আলমের তদন্তে বাকি ৬জন আসামীর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় মামলা হতে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে চার জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার প্রেক্ষিতে কমিশন প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে মানি লন্ডারি প্রতিরোধ আইন ২০০৯ এর ৪(২) এবং ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আমি চার্জশিট দাখিলের অনুমোদনপত্র হাতে পেয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এই মামলার চার্জশিট মহামান্য আদালতে দাখিল করবো।