খুলনায় অবৈধভাবে লোনা পানি উত্তোলন

0
107
pane

paneখুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় পাউবোর বেড়ি বাঁধ কেটে লবণ পানি উত্তোলন করা হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার একর জমিতে গত কয়েকদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল রাতে আধারে এ কাজ করেছে।

এতে লবণ পানির প্রভাবে বিল সংলগ্ন মাগুরখালী, কাঞ্চননগর, কাঁঠালিয়া, শিবনগর, গাজীনগর, গজালিয়া, বাগারদাড়ি, খাকড়াবুনিয়া, হেতালবুনিয়া, কুড়াকাটা, হাবুড়িয়া, ঝরঝরিয়া, হোগলাবুনিয়া, চিত্রামারি, বৈঠাহারা, মহাদেবপুর, আধারমানিক, নাথেরকুড়, বায়নাহারা, গোলাবদহ, মুড়াবুনিয়া ছোট ও বড়, চ্যাংমারী, কুলবাড়িয়া, নয়নভ্রমা বিল, শোভনা, শিবপুরের হাজার হাজার চাষিরা পড়েছেন বিপাকে।

এ সকল এলাকায় প্রায় ৫০টি মৌজার ২৬টি বিলে প্রায় ৯ হাজার একর জমিতে অবাধে লবণ পানির চিংড়ি চাষ চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দক্ষিণ অঞ্চলের ত্রাস নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান মৃণাল ওরফে মনোরঞ্জন ওরফে গোসাই তার প্রধান আয়ের উৎস ছিল পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে নোনা পানির চিংড়ি চাষ।

২০০৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৃনাল ভারতে খুন হওয়ার পর বিশেষ করে ডুমুরিয়া এলাকায় নোনা পানির চিংড়ি চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ এলাকায় আবারও ধান ও সব্জির চাষ ব্যাপকতা লাভ করে। সম্প্রতি পালিয়ে থাকা মৃণাল বাহিনীর সহযোগীরা আবারও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে নোনা পানির চিংড়ি চাষ শুরু করেছে।

এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, যে সকল সন্ত্রাসী এলাকা ছেড়ে এত দিন বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিল তারা এলাকায় ফিরে পূর্বের ন্যায় কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার ১৭, ১৭/১, ২৬, ২৯ নম্বর পোল্ডারে অর্ধ-শতাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ কেটে বাঁধের অভ্যন্তরে নোনা পানির চিংড়ি চাষ ব্যাপক হারে চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে লবণ পানির চিংড়ির চাষ করায় দরিদ্র জনগোষ্ঠি তাদের কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিল সংলগ্ন এলাকার গ্রামগুলোতে লবণ পানির প্রভাবে বনজ সম্পদ উজাড় হচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে পশু সম্পদ ও সবজির ক্ষেত। ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপও বেশি দেখা যাচ্ছে। সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে এ এলাকায় জোর করে লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে।

পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে লবণ পানির চিংড়ি চাষি স্থানীয় চেয়ারম্যান বিমল সানা ও সুবোদ কুমার মণ্ডল বলেন, আমাদের জমিতে আমরা লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ করছি। আর বেড়ি বাঁধ কেটে নোনা পানি তোলা হয় না। সরকারিভাবে রাস্তায় পাইপ বসিয়ে পানি তুলে পরিবেশ বান্ধব চিংড়ি চাষ করা হয়।

এ বিষয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেএফ