রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

সিপিডরি সংলাপে মতামত

0
84

রানা প্লাজারানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বল্প মেয়াদে কিছুটা বাস্তবায়ন হলেও চরম সমন্বয়হীতা এটাকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগেও শতস্ফুর্ত কোনো অংশ গ্রহণ দেখা যায়নি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকা দরকার।
বুধবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে  সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রানা প্লাজার এক বছর’ শীর্ষক সংলাপে সংগঠনটির প্রতিবেদন ও বক্তাদের বক্তব্যে এই তথ্য ওঠে আসে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্ব উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দোকার গোলাম মোয়াজ্জেম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন হামিদা হোসেন, সুজনের সেক্রেটারি বদিউল আলম মজুমদার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, শামিমা নাসরিন, জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার-সহ ফায়ার সার্ভিস ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিলো তবে তা পূরণ হয়নি। স্বল্প মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের সহায়তার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়নি। তাদের শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ ছিল সামান্য।

উল্লেখ করা হয়েছে উদ্ধার হওয়া২৪৩৮ জনের মধ্যে পোশাক চাকরি দেওয়া হয়েছে ৭৭৭ জনকে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ১৯৩ জনকে। অন্য খাতে চাকরি দেওয়া হয়েছে ৭৯ জনকে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ৭০০ সন্তানের মধ্যে তাৎক্ষণিক ও ৪০৬ জনকে দীর্ঘ মেয়াদে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ১০০০ শ্রমিক এখনও শারীরিক সমস্যার কারণে কাজে যোগদান করতে পারছে না।
প্রশাসনিকভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বিষয়ে বক্তারা বলেন, ইউরোপের ক্রেতারা এই বিষয়ে এগিয়ে আসলেও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের ভূমিকা তেমনটা প্রতীয়মান হয়নি। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৭৩ মিলিয়ন ডলার থাকলেও তা কমিয়ে ৪০ মিলিয়নে এসে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানাগুলোকে সংস্কার করার সময়ে  অ্যালায়েন্স দুই মাসের বেতনের অর্ধেক পরিশোধ করবেন। তবে অন্যরা কি করবেন তা এখনও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। আবার কোনো কারখানা দুই মাস পেরিয়ে গেলে সেই সময়ের জন্য শ্রমিকদের বেতন কিভাবে পরিশোধ করতে হবে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
বলা হয় রানা প্লাজার মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা রোধে ফায়ার সার্ভিস বিভাগকে আরও আধুনিক রূপ সাজাতে হবে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। প্রয়োজনে এই বিভাগটি দূযোর্গ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে আরও উন্নতি করা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে সিপিডি।
বলা হয়, এখন শ্রমিকদের মধ্যে একপ্রকার ভীতি কাজ করছে।তারা এখনও হতাশায় দিনানিপাত করছে।

এর জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।  সময় ক্ষেপন না করে নিখোঁজ শ্রমিকদের  ক্ষতিপূরণ, অন্যদের প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসনসহ চাকরির ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
তাছাড়া ট্রাস্ট ফান্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা দরকার বলে মনে করে সিপিডি। আর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি মান নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। সাব-কন্ট্রাক নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনকম্প্লায়েন্স করা হচ্ছে। এটা না করে কারখানাগুলোকে কম্প্লায়েন্স করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য একটা জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন। যাতে সরকার, সুশীল সমাজ থাকবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থরা উপকার পাবে।তা না হলে ক্ষতিগ্রস্থরা আরও ক্ষতির শিকার হবে বলে মনে করেন তিনি। আর এর জন্য বিদেশি ক্রেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আর কোনো শ্রমিকে এভাবে আর জীবন দিতে না হোক সেই বিষয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা।