রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২০
Home সারাদেশ রাজশাহী জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে শিবিরের ৩ কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ১০

জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে শিবিরের ৩ কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ১০

জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে শিবিরের ৩ কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ১০
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

shibirরোববার জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে জেলার জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালট্রি এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত ও অন্তত: ১০/১২জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নিহতরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার হালট্রি গ্রামের মৃত. ফজলুর রহমানের ছেলে ভ্যান চালক ফিরোজ হোসেন (৩০), একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে  ইনসান আলী( ২৮)  ও পার্শ্ববর্তী জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শাকিব (২৫)। রোববার বিকেল ৪টার দিকে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর জামায়াত-শিবির কর্মীরা শহরে দুটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিলে সাথে সাথে দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জয়পুরহাট পৌর এলাকায় রোবাবর বিকাল ৫টা থেকে  সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা শহরের পুরানাপৈল এলাকায় রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে স্থানীয় কৃষি ব্যাংকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল দল এসে টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি করলে জামায়াত-শিবির ছত্রভঙ্গ হয়। পরে আগুন নিভিয়ে র‌্যাব-পুলিশের দল ধাওয়া করলে তারা পিছু হটে যায়। পরে তারা বাজার থেকে তিন কিলোমিটার দুরে গিয়ে হালট্টি মোড়ে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। এতে হালট্টি গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে ফিরোজ হোসেন(৩২) ,একই গ্রামের  মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনছান আলী (২৭) ও জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শাকিব হোসেন (২৫) নিহত এবং  কমপক্ষে আরও ১০জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাকিল, মাহমুদুল হাসান, রবিউল ইসলাম, মনছুর রহমান, আসমা বেগম, মোমিন ও আব্দুর রহমান কে জয়পুরহাট আধুনিক ও পাঁচবিবি’র মহিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর জামায়াত-শিবির শহরের  বাটার মোড়ে আগুন দিলে শহরের মানুষ দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। পরে তারা শহরের ইসলামী ব্যাংকের নীচে থাকা দু’টি মটরসাইকেল আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জয়পুরহাট পৌর এলাকায় বেলা ৫টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ‘হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশরে ওপর হামলা ও শহরে মটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কায় পৌর এলাকায় বিকেল ৫টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের অনুকুলে আছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় জয়পুরহাট পৌর এলাকায় আজ রোববার বিকেল ৫টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, পরিস্থিতি এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

সাকি/