কাশ্মিরে হিন্দু বসতি গড়ার পরিকল্পনা বিজেপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
121

১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সময় কাশ্মির ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া প্রায় ৩ লাখ হিন্দু ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বিজেপি সরকার বদ্ধ পরিকর। মুসলিম অধ্যুষিত ভারতের এই উপত্যকায় বিতাড়িত হিন্দুদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা রাম মাধব। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মির উপত্যকা পুনরায় অশান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স

পার্বত্য এই অঞ্চলটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। যেখানে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মির উপত্যকা ও হিন্দু অধ্যুষিত জম্মু ভারতের অধীনে এবং পশ্চিম অঞ্চল পাকিস্তানের অধীনে রয়েছে। দুটি দেশই সম্পূর্ণ অঞ্চলটি তাদের নিজেদের বলে দাবি করে।

রাম মাধব কাশ্মিরি পনণ্ডিতদের বিষয়ে বলেন, ‘উপত্যকায় ফিরে যাওয়া, তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং সেই সাথে আমাদের তাদেরকে উপযুক্ত সুরক্ষা প্রদান করতে হবে’

কাশ্মির উপত্যকায় বসবাস করা ৭০ লাখ লোক যাদের ৯৭ শতাংশ মুসলিম, হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য ও সশস্ত্র পুলিশ দ্বারা বেষ্টিত। যারা কাশ্মিরে নতুন দিল্লির শাসনের বিরুদ্ধে চলা বিদ্রোহ দমনে কাজ করছে এবং সরকারি সূত্র অনুযায়ী গত তিন দশকে এ কারণে এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি জানান জম্মু কাশ্মিরের পূর্ববর্তী বিজেপি সমর্থিত সরকার পৃথক অথবা সম্মিলিত বসতি নির্মাণের কথা চিন্তা করলেও তা আর কোনো অগ্রগতি দেখেনি। সে সময় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পৃথক বসতি নির্মাণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নেতাদের অপত্তি রয়েছে।

২০১৫ সালে উন্মুক্ত হওয়া একটি নকশাতে ফিরত আসা কাশ্মিরি পনণ্ডিতদের জন্য আলাদা উচ্চ সুরক্ষা সুবিধা সহ স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর নির্মানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যায়। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গুলো এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। তারা একে ফিলিস্তিনে হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের সাথে তুলনা করে থাকে।

২০১৮ সালে বিজেপির সাথে জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় জম্মু কাশ্মির রাজ্য সরকারের পতন ঘটে এবং রাজ্য সরাসরি দিল্লির অধীনে চলে আসে। ফলে পূর্ববর্তী পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে যায়। এ বছরের শেষ নাগাদ পুনরায় রাজ্য নির্বাচন হওয়ার আশা রয়েছে।

অর্থসূচক/টিটি