ব্যাংকিং খাত যেন একদিনের বাদশা

0
155
6 Bank

6 Bankপুঁজিবাজারে ব্যাংকিং খাতের শেয়ার যেনো একদিনের বাদশায় পরিণত হয়েছে। সপ্তাহে একদিন ঝলসে উঠছে এ খাতের শেয়ার। বাড়ছে লেনদেন ও দাম। কিন্তু পরদিনই ফিরে যাচ্ছে দীনহীন অবস্থায়। গত এক মাস ধরে এমন ধারা চলছে বাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত এক মাসের লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

চলতি সপ্তাহে সোমবার হঠাৎ জেগে উঠে ব্যাংকিং খাতের শেয়ার। পুরো বাজারের নেতৃত্ব নিয়ে নেয় হাতের মুঠোয়। লেনদেন, শেয়ারের দর বৃদ্ধি-সব কিছুতেই কর্তৃত্ব করে এ খাত। এদিন ডিএসইতে ৩০ টি ব্যাংকের শেয়ার কেনা-বেচা হয়, যার মধ্যে ২৭ টি বা ৯০ ভাগেরই দর বাড়ে। শেয়ারের দর হারায় মাত্র দুটি ব্যাংক। আর একটির দর অপরিবর্তিত থাকে। ডিএসইতে এদিন সামগ্রিক লেনদেন ১৫ শতাংশের মতো বাড়লেও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের লেনদেন বাড়ে প্রায় ৭২ শতাংশ।

আগের দিনের তেজী ঘোড়া পরদিনই (মঙ্গলবার) কেমন যেনো ঝিমিয়ে পড়ে। এদিন ৩০ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১১ টির শেয়ারের দাম বাড়ে। যা ব্যাংকিং খাতের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৭ শতাংশ। বাকী ৬৩ শতাংশের দাম হয় কমেছে, না হয় অপরিবর্তিত। এদিন ডিএসইতে দর হারায় ১০ টি ব্যাংক। আর ৯ টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত থাকে।

একদিনের ব্যাবধানে লেনদেনেও কেমন যেন গতিহীন হয়ে পড়ে ব্যাংকিং খাত। সোমবার এ খাতের লেনদেন ৭২ শতাংশ বাড়লেও মঙ্গলবার তা ১৫ শতাংশ কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাজারে অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের মূল্য-আয় অনুপাত তুলনামূলক কম। এ দিক থেকে বিনিয়োগের জন্য খাতটি বেশ অনুকূল। কিন্তু তারপরও বিনিয়োগকারীরা এ খাতের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের সন্দেহ, গত বছর খেলাপী ঋণ পুন:তফসিল ও প্রভিশনিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ছাড় দিয়েছে সেটি বহাল না থাকলে চলতি বছর ব্যাংকের মুনাফা কমেও যেতে পারে। ফলে তারা বেশ দ্বিধাগ্রস্ত। অন্যদিকে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন অনেক বেশী। এত বড় শেয়ারের জন্য যেমন তারল্য দরকার বর্তমান বাজারে তার ঘাটতি আছে। অন্যান্য খাত থেকে মুনাফা করে অনেক বিনিয়োগকারী ব্যাংকিং খাতে অবস্থান নিতে চায়। সে কারণে হঠাৎ এর লেনদেন ও শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু আস্থা ও তারল্য সঙ্কটে তা টেকসই হয় না।